দেবহাটায় সোর্স নজরুল হত্যাকাণ্ডের ১১দিনেও কোনো গ্রেফতার নেই

সিরাজুল ইসলাম, সাতক্ষীরা ॥ দেবহাটার চাঞ্চল্যকর সোর্স নজরুল হত্যাকা-ের ১১দিন অতিবাহিত হলেও ক্লু উদঘাটনের বিষয়টি রহস্যাবৃত রয়েছে। অথচ এরইমধ্যে ঘটে যাচ্ছে নতুন নতুন অনেক ঘটনা। সন্ধিগ্ধ আসামিদের ভয়ে ভীত-সন্ত্রস্ত হয়ে পড়েছেন নিহতের পরিবার। আদালতে মামলা করেও নিরাপত্তার অভাবে মামলাটি পরিচালনায় আগ্রহ দেখা যাচ্ছে না। তবে পুলিশের দাবি তদন্তে অগ্রগতি হয়েছে। যদিও পুলিশের কার্যক্রম নিয়ে রয়েছে নানা কথা। মামলার ভবিষ্যত নিয়ে সচেতন মহলও সংশয় প্রকাশ করেছেন।
সংশ্লিষ্ট সুত্র জানায়, গত ৩০ অগাস্ট রাত ৮টার দিকে পরিবারের সাথে নজরুলের শেষ কথা হয়। এর ঘন্টা দুয়েক পর সাদা প্রাইভেটকারে করে একটি লাশ লোডশেডিং অবস্থায় সখিপুর হাসপাতালের স্ট্রেসারে রেখে পালিয়ে যায় অজ্ঞাত দু:স্কৃতিকারিরা। পরে দেবহাটা উপজেলা পরিষদের ভাইস চেয়ারম্যানসহ স্থানীয়রা এসে একই এলাকার আলোচিত এই নজরুলকে চিনতে পারেন না বলে দাবি করা হয়। এরমধ্যে হাসপাতাল কর্তৃপক্ষের খবর পেয়ে দেবহাটা থানার পুলিশ সেখানে পৌছায়। রাতেই লাশের সুরতহাল সম্পন্ন করে ময়না তদন্তে পাঠায়। নিহতের পরিচয় জানতে ফেইসবুকে কয়েকটি পোস্ট আসে ওই জনপ্রতিনিধির। পরদিন লাশটির পরিচয় জানাগেছে মর্মে আরও একটি পোস্ট আসে। এরপর নিহতের পরিবারের সাথে মোবাইলে কথা হয় ওই জনপ্রতিনিধির। সেখানে পরিবারের সদস্যদের জানানো হয় তোমরা থানায় এসো। আমি নিজে বাদি হয়ে ওমুক ওমুকের নামে মামলা করে দিচ্ছি। এসব বক্তব্য নিহতের পরিবার রীতিমত রেকর্ড করে রেখেছেন বলে জানাগেছে।
এদিকে নিহতের পরিচয় জানার পর তার পরিবার লাশটি নিতে আগ্রহ প্রকাশ করে। তারা আইনি পদক্ষেপ গ্রহণ করে। এরই মধ্যে চলতি মাসের ৪ তারিখে নিহতের পিতা মোক্তার মোড়ল বাদি হয়ে দেবহাটা আমলী আদালতে ৪ জনকে আসামি করে দ:বিধির ৩০২/৩৪ ধারায় একটি হত্যা মামলা দায়ের করেন। মামলা দায়ের করার সাথে সাথে ওই জনপ্রতিনিধির ক্যাডার বাহিনী রাতে কুলিয়ার আশু মার্কেটে নিহতের বড় ছেলে হাবিবুল্যাকে অপহরণের চেষ্টা করে। তাৎক্ষনিক ফোন আসে সাতক্ষীরা প্রেসক্লাবে ও বিভিন্ন সাংবাদিকের কাছে। রাতে দেবহাটা থানার ওসি তদন্ত শরিফুল ইসলাম অপহরণের বিষয়টি স্বীকার করে ঘটনাস্থলে আছেন বলে জানান।
বর্তমানে সোর্স নজরুল হত্যাকা-ে কারা জড়িত তা আইন-শৃঙ্খলা বাহিনী খতিয়ে দেখছে। তবে নিহতের পরিবার নিরাপত্তার কথা ভেবে মুখ খুলছেন না। খবর রয়েছে, মামলা করে বাদি পরিবার এতটাই চাপেরমুখে পড়েছেন, যে মামলা তুলে নেয়ার কথাও ভাবছেন। সচেতন মহল বলছেন, ঘটনার ১১দিনেও যেমন কেউ গ্রেপ্তার হয়নি, তেমনি কাউকে জিজ্ঞাসাবাদও করা হয়নি। তবে পুলিশ বলছে, তদন্তে ৮০ ভাগ অগ্রগতি হয়েছে। যা সুবিধামত সময়ে দৃশ্যমান হবে।
অপরদিকে একাধিক সূত্র জানায়, পারুলিয়া এলাকার জনৈক ঘরজামাইকে ৩ দফা ভারতীয় কাপড় ও থ্রি পিচসহ সোর্স নজরুলের সহয়তায় আটক করা হয়। চলতি বছরের ১৯ জুন ও তার আগে পরে প্রায় কোটি টাকার পণ্য আটকের ঘটনায় সোর্স নজরুল টার্গেটে পড়ে। এ হত্যাকা-ের পেছনে তার হাত আছে কি না তাও খতিয়ে দেখার দাবি সংশ্লিষ্টদের।
বর্তমানে প্রভাবশালি কয়েকজন নিহতের পরিবারকে মামলা তুলে নিতে এবং অভিযুক্তদের এফিউডেভিটের মাধ্যমে অব্যহতি দিতে চাপ সৃষ্টি করে যাচ্ছে বলে সংশ্লিষ্ট একাধিক সূত্র জানায়।
এদিকে মামলার তদন্তকারি কর্মকর্তা দেবহাটা থানার এসআই ইয়ামিন জানান, এটি নিশ্চিত একটি হত্যাকা-, আমাদের কাছে অনেক তথ্য এসেছে। আমরা সেসব খতিয়ে দেখছি। মামলার তদন্তে অনেক অগ্রগতি হয়েছে দাবি করে তিনি বলেন, এটি একটি সেনসেটিভ ব্যাপার, তদন্তের স্বার্থে সবকিছু বলা যাবে না।
তবে অচিরেই বিষয়টি পরিস্কার হবে। এক প্রশ্নের জবাবে তিনি বলেন, আদালতে একটি নালিশী অভিযোগ হয়েছে। আমরা কপি পেয়েছি। জিআর মামলার বিধান অনুযায়ী আদালতকে অবহিত করেছি। বিজ্ঞ আদালত এখনও কোন দিক নির্দেশনা দেননি। তবে আদালতে দায়েরকৃত নালিশী অভিযোগটি তদন্তে সহায়ক হিসেবে কাজ করবে বলে তিনি মন্তব্য করেন।
এবিষয়ে কথা হয় দেবহাটা থানার ওসি তদন্ত শরিফুল ইসলামের সাথে। তিনি জানান, নিহতের ব্যক্তিগত সেলফোনের কয়েকটি নাম্বার ইতোমধ্যে সনাক্ত করা হয়েছে। সেগুলোর কললিষ্ট পাওয়ার চেষ্টায় আছি। ধীর গতিতে এ মামলার তদন্ত কার্যক্রম অব্যাহত আছে। তদন্তে অনেককিছু পরিস্কার হয়ে আসছে। দ্রুতই দৃশ্যমান ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।

SHARE