ইংরেজি POLICE শব্দের বিশ্লেষণ করলে দাঁড়ায়- P – Polite, O – Obedient, L – Loyel, I – Inteligent, C – Courageous, E – Efficient। এই বহুগুণে গুণান্বিত মানবিক পুলিশই মানুষ জন দেখতে চায়। কিন্তু দুঃখজনক বাস্তবতা হচ্ছে মাঝেমধ্যেই এই প্রত্যাশার ব্যত্যয় ঘটে। অনেক পুলিশ এমনসব অপকর্মের সাথে জড়িত হন যা তাদের পেশার মান মর্যাদার সঙ্গে কোনোভাবেই সঙ্গতিপূর্ণ নয়। পুলিশের বিরুদ্ধে হয়রানি, চাঁদাবাজির অভিযোগ নতুন নয়। অবস্থা এমন হয়েছে যে তা বেড়েই চলেছে। এরই প্রমাণ আবার দেখা গেল খুলনার খালিশপুর থানার ওসিসহ ১১ পুলিশ সদস্যের বিরুদ্ধে ওঠা অভিযোগ থেকে। এক ক্ষুদ্র ব্যবসায়ীকে আটকে রেখে চাঁদা দাবি করে পুলিশ। সেটি না দিতে পারায় দুই চোখ উপড়ে ফেলা হয়েছে ওই ব্যবসায়ীর। হাসপাতালে আশঙ্কাজনক অবস্থায় শয্যাশায়ী ওই ব্যবসায়ী। এ ধরনের অভিযোগ গুরুতর। কোনো অবস্থায়ই যেন অভিযুক্তরা পার পেয়ে না যায় সেটি নিশ্চিত করতে হবে।
গণমাধ্যমের খবর থেকে জানা যায়, পিরোজপুরের ক্ষুদ্র ব্যবসায়ী শাহ জালাল খুলনায় শ্বশুরবাড়িতে বেড়াতে এসেছিলেন। ১৮ জুলাই সন্ধ্যায় শিশুকন্যার জন্য দুধ কিনতে বাইরে গেলে পুলিশের দুই সোর্স তাকে কৌশলে থানায় নিয়ে যায়। পরে পরিবারের সদস্যরা থানায় গেলে পুলিশ দেড় লাখ টাকা দাবি করে, না হলে মেরে ফেলা হবে বলে হুমকি দেয়। তারা টাকা দিতে অসমর্থ হলে রাত ১১টায় পুলিশের একটি গাড়ি শাহ জালালকে নিয়ে পরিবারের সদস্যদের সামনে দিয়েই বেরিয়ে যায়। এরপর রাতে আর তার কোনো খোঁজ পাওয়া যায়নি। খুব ভোরে খুলনা মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতালের বারান্দায় তাকে পাওয়া যায় দুই চোখ উপড়ানো অবস্থায়। খুলনা মেডিক্যালে অবস্থার অবনতি হলে তাকে ঢাকা মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতালে পাঠানো হয়।
‘একটি স্বাধীন দেশের পুলিশ বাহিনী জনবান্ধব হবে-এটি একটি সাধারণ প্রত্যাশা। সেখানে কিছুসংখ্যক পুলিশ সদস্যের অর্থলিপ্সা ও কুকর্মের কারণে গোটা পুলিশ বাহিনীর ভাবমূর্তি নষ্ট হচ্ছে। এটি মেনে নেওয়া যায় না।’

পুলিশের কাজ হচ্ছে জননিরাপত্তা নিশ্চিত করা। মানুষের জানমাল রক্ষায় তারা সর্বাত্মক চেষ্টা চালাবে এটিই কাম্য। কিন্তু দেখা গেল সামান্য কিছু অর্থের জন্য একজন নিরীহ নিরপরাধ মানুষকে ধরে নিয়ে নির্যাতন চালিয়ে চোখ উপড়ে ফেলা হলো। এই অভিযোগ সত্য হল এরচেয়ে জঘন্য অপরাধ আর কি হতে পারে। আর সেটি যদি আইন-শৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর মত কোনো সুশৃঙ্খল বাহিনী করে তাহলে তা আরো আতঙ্কের ব্যাপার।
দিন দিন পুলিশের কর্মপরিধি বাড়ছে। সেই সঙ্গে বাড়ছে পুলিশের সক্ষমতাও। একটি স্বাধীন দেশের পুলিশ বাহিনী জনবান্ধব হবে-এটি একটি সাধারণ প্রত্যাশা। সেখানে কিছুসংখ্যক পুলিশ সদস্যের অর্থলিপ্সা ও কুকর্মের কারণে গোটা পুলিশ বাহিনীর ভাবমূর্তি নষ্ট হচ্ছে। এটি মেনে নেওয়া যায় না। অভিযুক্ত পুলিশ সদস্যদের বিরুদ্ধে বিভাগীয় তদন্তের পাশাপাশি বিচারবিভাগীয় তদন্ত কমিটি গঠন করে দোষীদের শাস্তি নিশ্চিত করতে হবে। ক্ষতিগ্রস্ত শাহ জালালের ক্ষতিপূরণেরও ব্যবস্থা করতে হবে। এ ধরনের ঘটনার পুনরাবৃত্তি রোধে নিতে হবে কঠোর আইনানুগ ব্যবস্থা।

SHARE