‘বাবা’র ডেরা থেকে মহিলা হোস্টেল পর্যন্ত সুড়ঙ্গ!

সমাজের কথা ডেস্ক॥ ‘বাবা’ রাম রহিমের ব্যক্তিগত আবাস থেকে একটি সুড়ঙ্গ চলে গেছে সোজা সাধ্বী নিবাসের (মহিলা হোস্টেল) দিকে। বাইরে থেকে বোঝার উপায় নেই। এ গোপন পথের সন্ধান মিলল সিরসার ডেরায়।
ওই সুড়ঙ্গ ছাড়াও আরও একটি সুড়ঙ্গের সন্ধান পেয়েছে পুলিশ। হরিয়ানা সরকারের মুখপাত্র সতীশ মিশ্র জানান, আমরা জানালার মতো চৌকোনা একটি সুরঙ্গপথ পেয়েছি, যেটি বাবার ডেরার আবাস থেকে সাধ্বী নিবাস পর্যন্ত গেছে। দ্বিতীয় সুড়ঙ্গটি ডেরার ভেতর থেকে শুরু হয়ে পাঁচ কিলোমিটার বাইরে গিয়ে শেষ হয়েছে। এটি পুরোটাই মাটির।
সম্ভবত দরকারে পালানোর পথ হিসেবে এটি তৈরি রাখা হয়েছিল, মনে করছে পুলিশ।
শনিবার ছিল সিরসার ডেরা সচ্চা সৌদার সদর দফতরে পুলিশি তল্লাশির দ্বিতীয় দিন। এ দিনের তল্লাশিতে আস্ত একটি বিস্ফোরক কারখানার খোঁজ মিলেছে বলে জানিয়েছে পুলিশ। উদ্ধার করা হয়েছে ৮০ কার্টনের বেশি বিস্ফোরক। তল্লাশি অভিযান শুরুর ঘণ্টা খানেকের মধ্যেই খোঁজ মেলে কারখানাটির।

পুলিশের প্রাথমিক অনুমান, এখানে বহুদিন ধরে তৈরি করা হত বিস্ফোরক। কারখানাটি সিল করে দেয়া হয়েছে। তদন্তের কাজে লাগানো হয়েছে রুরকি থেকে আসা ফরেনসিক দলকে।
বিস্ফোরকের প্রকৃতি এবং তা কতটা শক্তিশালী সেসব পরীক্ষা করা দেখা হচ্ছে। পাশাপাশি, কারখানায় তৈরি বিস্ফোরক বাইরে বিক্রি করা হত কি না, সেই বিষয়ও তদন্ত করা হচ্ছে বলে জানিয়েছে পুলিশ।
জোড়া ধর্ষণ কান্ডে ‘রকস্টার বাবা’ গুরমিত রাম রহিম সিংহ জেলে যাওয়ার পর থেকেই সিরসায় ডেরার সদর দফতরে তল্লাশি করা হবে বলে জানিয়েছিল পুলিশ। পঞ্জাব ও হরিয়ানা হাইকোর্টের নির্দেশে ৭০০ একরের ডেরা চত্বরে তল্লাশি গতকাল শুক্রবার থেকেই শুরু হয়েছে।
তল্লাশি চালাচ্ছে পুলিশ এবং সরকারি নানা বিভাগের ১০টি দল। রয়েছে ৪১ কোম্পানি আধাসামরিক বাহিনী, ফরেনসিক দলও। পুরো বিষয়টি ভিডিও করে রাখতে লাগানো হয়েছে ৬০টিরও বেশি ক্যামেরা।
প্রথম দিনের তল্লাশিতে মিলেছিল এক টাকার নীল, ১০ টাকার কমলা রঙের প্লাস্টিকের কয়েন। মিলেছে ১২০০টি নতুন নোট। বাতিল পাঁচশো-হাজারের সাত হাজারটি নোট। পাওয়া গেছে ১৫০০ জোড়া জুতো, তিন হাজারেরও বেশি ডিজাইনার জামাকাপড়!
বাজেয়াপ্ত করা হয়েছে অসংখ্য ল্যাপটপ ও হার্ড ড্রাইভ। ডেরার সদর দফতরে বহু লাশ পোঁতা রয়েছে বলেও খবর মিলেছে। সেই জন্য জেসিবি মেশিন এনে মাটি খোঁড়া শুরু করেছে পুলিশ।
নিরাপত্তার খাতিরে এদিনও জেলায় মোতায়েন রয়েছে পর্যাপ্ত সংখ্যক পুলিশ। গতকালের মতো এদিনও ডেরা সদর দফতরের বাইরে রয়েছে ডগ স্কোয়াড। রয়েছে বম্ব স্কোয়াড, দমকল, অ্যাম্বুল্যান্সও।

SHARE