আব্দুল জলিল, সাতক্ষীরা॥ সাতক্ষীরায় মোটা অংকের উৎকোচের বিনিময় পুলিশ ধর্ষণ মামলার অসামি গ্রেফতার না করায় আত্মহত্যার হুমকি দিয়েছে ধর্ষণের শিকার স্কুল ছাত্রী। শুক্রবার দুপুরে সাতক্ষীরা প্রেসক্লাবে এক সংবাদ সম্মেলনে এই হুমকি দেন শ্যামনগর উপজেলার ধাপুয়ারচক গ্রামের ওই স্কুল ছাত্রী।
সংবাদ সম্মেলনে লিখিত বক্তব্যে মেয়েটি জানায়, তার বাবা দ্বিতীয় স্ত্রীকে নিয়ে দীর্ঘদিন ধরে অন্যত্র বসবাস করায় তা মা দিনমজুরের কাজ করে তাকে পড়ালেখা শেখানোর চেষ্টা করে আসছেন। মেয়েটি স্কুলে যাওয়া আসার পথে কালিগঞ্জ উপজেলার খড়িতলা গ্রামের আহম্মাদ শেখের ছেলে আশিক ও শ্যামনগর উপজেলার ধাপুয়ার চক গ্রামের গফ্ফার সরদারের ছেলে রফিকুলসহ কয়েকজন প্রায়ই তাকে কুপ্রস্তাব দিতো। বিষয়টি স্থানীয় গণ্যমান্য ব্যক্তিদের অবহিত করলে আশিক ও রফিকুলসহ তাদের লোকজন তার উপর ক্ষিপ্ত হয়ে ওঠে এবং তাকে প্রকাশ্যে অপহরণ ও ধর্ষণের হুমকি দেয়। ফলে তাদের ভয়ে মেয়েটির মা তার বিয়ের জন্য পাত্র খুজতে শুরু করেন। এক পর্যায় গত ৮ আগস্ট যশোরের মণিরামপুর এলাকা থেকে একটি পাত্র পক্ষ তাকে দেখতে আসেন। ফিরে যাওয়ার পথে আশিক গংরা শ্যামনগর থানার পুলিশকে দিয়ে তাদেরকে আটক করায়। খবর পেয়ে তার মা পাত্রপক্ষকে ছাড়ানোর চেষ্টা করেন এবং ১১ আগস্ট সারাদিন থানায় অবস্থান করেন।
বৃদ্ধা নানীকে নিয়ে বাড়িতে থাকা অবস্থায় রাত ৮টার দিকে আশিক, রুহুল আমিন ও পবিত্র কুমার মন্ডল অব্দুর রহিমের ব্যবহৃত সিআরভি গাড়ি নিয়ে তাদের বাড়ির সামনে আসে এবং পুলিশ পরিচয় পাত্রপক্ষকে ছাড়ানোর কথা বলে তাকে গাড়িতে তুলে নিয়ে যায়। পরে তারা মেয়েটিকে থানায় না নিয়ে আব্দুর রহিমের বংশিপুরস্থ রোজা ব্রিক্সের দোতালা ভবনের একটি কক্ষে নিয়ে ধর্ষণের চেষ্টা করে। বাধা দিতে গেলে আশিক ও রফিকুল অস্ত্রের মুখে মৃত্যুর ভয় দেখিয়ে প্রথমে আব্দুর রহিম, রফিকুল, শফিকুল, রুহুল আমিন, পবিত্র ও আশিক পালাক্রমে জোরপূর্বক তাকে ধর্ষণ করে। পরে অজ্ঞান অবস্থায় ওই গাড়িতে করে ইসমাইলপুর রাস্তার পাশে একটি ফাকা স্থানে তাকে ফেলে রেখে যায়। পরে স্থানীয়দের সহায়তায় মেয়েটির মা তাকে উদ্ধার করে শ্যামনগর থানায় নিয়ে যায় এবং পুলিশের পরামর্শে চিকিৎসার জন্য সাতক্ষীরা সদর হাসপাতালে ভর্তি করায়।
তিনি অভিযোগ করে বলেন, সুস্থ হয়ে শ্যামনগর থানায় উল্লেখিত ধর্ষকদের বিরুদ্ধে মামলা করতে গেলে পুলিশ মামলা না নিয়ে তালবাহনা শুরু করে। উপায় না পেয়ে ২০ আগস্ট মেয়েটি বাদি হয়ে সাতক্ষীরা নারী ও শিশু নির্যাতন দমন ট্রাইব্যুনালে একটি মামলা দায়ের করে। আদালত মামলাটি এফআইআর হিসাবে গণ্য করে আসামিদের বিরুদ্ধে আইনগত ব্যবস্থা গ্রহণের জন্য শ্যামনগর থানার ওসিকে নির্দেশ দেন। পুলিশ মামালা রেকর্ড করলেও আসামিদের গ্রেফতার করছে না। মেয়েটি অভিযোগ করে, তারা জানতে পেরেছে পুলিশ আসামিদের কাছ থেকে মোটা অংকের টাকা নিয়ে তাদেরকে গ্রেফতার করছে না। তারা প্রকাশ্যে ঘোরাফেরা করছে।
তিনি আরো বলেন, পুলিশ আসামিদের বিরুদ্ধে কোন ব্যবস্থা গ্রহণ না করায় আশিক গংরা মামলা প্রত্যাহার না করলে আমাকে ও মাকে হত্যা গুমসহ বিভিন্ন ধরনের হুমকি দিচ্ছে। এঘটনায় আমার মা বাদি হয়ে গত ৩ সেপ্টেম্বর আমাদের জীবনের নিরাপত্তা চেয়ে নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট আদালতে একটি ৭ ধারার মামলা দায়ের করেছেন। আদালত আসামিদের বিরুদ্ধে সমন জারি করেছে। অনতিবিলম্বে মামলার আসামিদের গ্রেফতার না করলে তিনি আত্মহত্যা করবেন বলে হুমকি দেন। তিনি আসামিদের গ্রেফতার করে তাদেরকে আইনে সোপর্দ করার জন্য পুলিশ সুপারসহ সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের জরুরী হস্তক্ষেপ কামনা করেন।

SHARE