ম্যাজিস্ট্রেট আনিসুর রহমানের ১৪ মাসের অভিযান, অর্ধকোটি জরিমানা
আইন অমান্য করা যশোরের অনেক রাঘববোয়ালের মুখোশ উন্মোচন

নিজস্ব প্রতিবেদক ॥ গত ১৪ মাসে যশোরে দেড় শতাধিক ভ্রাম্যমাণ আদালত পরিচালনা করে প্রায় অর্ধকোটি টাকা জরিমানা আদায় করেছেন ভ্রাম্যমাণ আদালতের বিচারক নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট আনিসুর রহমান। আইন অমান্য করায় জেলার অনেক রাঘববোয়ালের নামে তিনি মামলা দিয়ে জরিমানা আদায় করেন। সচেতন যশোরবাসীর সামনে মুখোশ উন্মোচন করেছেন ভেজাল ও অনিয়মকারীদের। শিশুদের পছন্দের খাবার চিপস ও আইসক্রিমে কীভাবে অসাধুরা ক্ষতিকর কেমিক্যাল ব্যবহার করে তা হাতেনাতে ধরে তিনি অভিভাবকদের সামনে পরিষ্কার করেছেন। একারণে দুর্নীতিবাজদের কাছে তিনি যেমন আতংকিত, তেমনি সচেতন-বিবেকবানদের কাছে হয়েছেন জনপ্রিয়।
ভ্রাম্যমাণ আদালত সংশ্লিষ্ট সূত্র জানায়, ২০১৬ সালের জুলাই থেকে ২০১৭’র আগস্ট পর্যন্ত যশোরে ১শ’ ৬৬টি অভিযান পরিচালনা করেছেন ভ্রাম্যমাণ আদালতের নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট আনিসুর রহমান। অভিযানে তিনি ৩৮৫টি মামলা করে জরিমানা আদায় করেছেন ৪৭লাখ ৯৮হাজার ৬শ’ টাকা। ভ্রাম্যমাণ আদালত এ সময়ে ৩৪ জনকে সর্বনিম্ন ৩ দিন হতে ৬ মাস পর্যন্ত বিনাশ্রম কারাদণ্ড দেন।
নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট আনিসুর রহমান জানান, খাদ্যখাতকে ভেজালমুক্ত রাখতে পরিচালিত অভিযানগুলোর মধ্যে ক্ষতিকর রং দিয়ে বেকারিপণ্য তৈরি, বিভিন্ন ফ্লেভার দিয়ে আইসক্রিম তৈরি, ভেজাল চা, নকল বনফুল সেমাই চিহ্নিত করে জরিমানা আদায় ছিলো উল্লেখযোগ্য। শিশুদের পছন্দনীয় চিপস তৈরিতে ইউরিয়া সারের ব্যবহার করার বিরুদ্ধে তিনি অভিযান পরিচালনা করেন।
এদিকে যশোর শহরের কাঠেরপুলে মরা গরুর মাংস বিক্রয়ের বিরুদ্ধে পরিচালিত ভ্রাম্যমাণ আদালত যশোরবাসীর কাছে জনপ্রিয় হয়ে ওঠে। শহরের বাজারে সোনালি মুরগিকে দেশি মুরগি হিসাবে বিক্রয় করে ক্রেতাদের ঠকানো হচ্ছিল। আনিসুর রহমানের নেতৃত্বে ভ্রাম্যমাণ আদালত তার বিরুদ্ধে অবস্থান নিয়ে আরও একবার সাড়া ফেলে। এছাড়া হাসপাতালকে দালালমুক্ত করা, ক্লিনিক ও ডায়াগনস্টিক সেন্টারের বিরুদ্ধে অবস্থান নিয়ে ভ্রাম্যমাণ আদালত স্বাস্থ্যখাতকে মানবসেবায় উপযুক্ত রাখার চেষ্টা করেন। তিনি শহরের নামকরা একতা হাসপাতাল থেকে এক লাখ টাকা জরিমানা আদায় করেন। সর্বশেষ ৬ সেপ্টেম্বর যশোরের এআর এগ্রো সার কারখানা থেকে দেড় লাখ টাকা জরিমানা আদায় করেন।
সূত্র মতে, এই সময়ে ইন্ডিয়ান ভিসা অফিসকে দালালমুক্ত করা, নকল দস্তা সার প্রতিরোধ, নকল লুব্রিকেন্ট, মাদ্রাসার ভিতরে অবৈধ ইলেকট্রিক কারখানা ও করাত কলের বিরুদ্ধে অভিযান চালিয়েছেন আনিসুর রহমানের নেতৃত্বে ভ্রাম্যমাণ আদালত। এসব অভিযানের অধিকাংশই ভোক্তা অধিকার সংরক্ষণ আইন-২০০৯’র আওতায় পরিচালিত হয়েছে। যেখানে সহযোগিতা করেন ভোক্তা অধিকার সংরক্ষণ অধিদপ্তর যশোর জেলা কার্যালয়ের সহকারী পরিচালক সোহেল শেখসহ পেশকার জামাল উদ্দিন ও আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর পুলিশ ও বিজিবি সদস্যরা।
এদিকে নওয়াপাড়া নদীবন্দরের অবৈধ স্থাপনা উচ্ছেদ, ভৈরব নদের ০৭ কিমি অবৈধ বাঁধ, পাটা, বেড়া উচ্ছেদ, কেশবপুরের ভরতভায়না ও সন্ন্যাসগাছার ১৩১ শতক জমি অবৈধ দখলমুক্ত করা, চৌগাছার ঋষিপাড়া অবৈধ গরুর হাট উচ্ছেদ করে দখলদারদের বিরুদ্ধে শক্ত অবস্থান নেন আনিসুর রহমান।