সাতক্ষীরা প্রতিনিধি॥ সাতক্ষীরার নীলডুমুর ১৭ ব্যাটালিয়নের শাঁখরা কোমরপুর বিওপি ক্যাম্পের সদস্যদের স্পিডবোটের পাখার আঘাতে ছয়টি গরু মৃত্যুর অভিযোগ পাওয়া গেছে। বৃহস্পতিবার দিবাগত রাত দেড়টা থেকে দু’ টোর দিকে সাতক্ষীরা সীমান্তের শাঁখরা ভাঙার মোড় এলাকায় এ ঘটনা ঘটে।
সাতক্ষীরা সীমান্তের পদ্ম শাঁখরা এলাকার বাসিন্দারা জানান, পদ্ম শাঁখরা বিওপি ক্যাম্পটি বিজিবি’র সাতক্ষীরা ৩৪ ব্যটালিয়নের আওতাধীন। এ বিওপি ক্যাম্পের আওতায় রয়েছে আ’লীগ নেতা শহীদুল ইসলামের গরুর খাটাল।
এখানে শতাধিক বেকার যুবক গরু রাখা, পরিবহন, বিক্রি ও করিডর করার কাজে নিয়োজিত। অপর দিকে নীলডুমুর ১৭ ব্যাটালিয়নের আওতায় শাঁখরা কোমরপুর এলাকায় রয়েছে ইউপি সদস্য আব্দুল আলিমের গরুর খাটাল।
ভারতের উত্তর ২৪ পরগনা জেলার বসিরহাট মহকুমার বাগুন্ডি এলাকার একটি মসজিদ সংলগ্ন ইটভাটা থেকে ভারতীয়রা এসব খাটালে গরু ও মহিষ পাঠিয়ে থাকে। শুধুমাত্র জোয়ারের সময় শহীদুল ইসলামের খাটালে গরু ওঠে। জোয়ার ও ভাটা উভয় সময়ে আব্দুল আলীমের খাটালে গরু ওঠে। এ নিয়ে খাটাল ব্যবসায় আব্দুল আলিম সুবিধাজনক অবস্থানে।
পদ্মশাঁখরা এলাকায় শহীদুল ইসলামের মালিকানাধীন বিট খাটালের পরিচালনাকারি আসাদুল হক, মন্টু ইসলাম, আব্দুল গফুর, জাহিদুল ইসলাম, গোলাম সরোয়ার খোকন ও আশিকুর রহমান জানান, বৃহস্পতিবার রাত ১০টায় ইছামতী নদীতে জোয়ার শুরু হয়।
জোয়ার শুরুর কিছুক্ষণ পর ভারতীয় মালিকরা পদ্ম শাঁখরা ও শাঁখরা কোমরপুর দ’ুটি খাটালের জন্য ৩৫০টি গরু ও মহিষ ইছামতী নদীতে ভাসিয়ে দিয়ে রাখাল দিয়ে তাড়িয়ে বাংলাদেশ সীমান্তমুখী করে দেয়। রাত ১২টার দিকে জোয়ারের টানে তাদের খাটালের পার্শ্ববর্তী নদীর চরে কিছু গরু ও মহিষ উঠতে শুরু করে।
এসময় বিজিবি সদস্যরা ভাঙার মোড়ের পার্শ্ববর্তী মাজেদ ও আব্দুল আজিজের বাড়ির সামনে থেকে স্পিডবোট নিয়ে দ্রুত গতিতে নদী আড়াআড়ি টহল শুরু করে। বোটের এলোমেলো চলাচলে ছয়টি গরু পাখার আঘাতে ক্ষতবিক্ষত হয়ে নদীতে মারা যায়। যা শুক্রবার ভোরে তাদের পারের নদী চরে পড়ে থাকতে দেখেন তারা। সূর্য ওঠার পরপরই ঋষি সম্প্রদায়ের লোকজন ওইসব গরুর চামড়া খুলে নিয়ে যায়। ছয়টি গরুর মৃত্যুর কারণে ভারতীয় ব্যবসায়িরা কমপক্ষে ছয় লাখ টাকা ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছেন বলে অভিযোগ করেন তারা।
এ ব্যাপারে ভোমরা বিজিবি ক্যাম্পের সুবেদার হায়দার আলী জানান, তিনি বিজিবি’র স্পিডবোটের পাখার আঘাতে ছয়টি গরুর মৃত্যুর বিষয়টি সকালেই শুনেছেন। বিষয়টি নিয়ে তিনি উর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষের সঙ্গে কথা বলেছেন।

SHARE