শরণখোলায় শ্বশুর বাড়িতেই নির্যাতনের শিকার প্রবাসীর স্ত্রী

শরণখোলা (বাগেরহাট) প্রতিনিধি ॥ স্বামী বিদেশ থাকার সুযোগে দীর্ঘদিন ধরে শ্বশুর, শাশুড়ী, ননদ ও ননদের স্বামী মিলে আমাকে শারীরিক ও মানষিক নির্যাতন করে চলেছে। ৩ সন্তানসহ কয়েক বার তারা আমাকে বাড়ি থেকে বের করে দিয়েছে। সর্বশেষ গত ৫ সেপ্টেম্বর রাতে আমাকে মারধর করে ঘরে থাকা দলিলপত্র, টাকা পয়সা ও সোনাদানা নিয়ে গেছে। এখন আমি অসুস্থ অবস্থায় হাসপাতালে চিকিৎসাধীন। শ্বশুরালয়ের লোকজনের ধারাবাহিক নির্যাতনে আমি সন্তানদের নিয়ে চরম অসহায় হয়ে পড়েছি। বুধবার দুপুরে শরণখোলা প্রেসক্লাবে সংবাদ সম্মেলনে পরিবারিক নির্যাতনের এমন বর্ণনা দিতে গিয়ে কান্নায় ভেঙ্গে পড়েন সৌদি প্রবাসী বাগেরহাটের শরণখোলা উপজেলার খোন্তাকাটা ইউনিয়নের পশ্চিম রাজৈর গ্রামের কাওসার পহলানের স্ত্রী শাহনাজ বেগম (৩০)।
শাহনাজ বলেন, তার স্বামী দীর্ঘ ১০-১২ বছর ধরে সৌদি আরবে অবস্থান করছেন। শ্বশুর ইয়াসীন পাহলান, শাশুড়ী আয়েশা বেগম, ননদ মরিয়ম বেগম ও ননদের স্বামী এমদাদুল আকনসহ পরিবারের সবাই একই বাড়িতে থাকেন। স্বামী বিদেশ থাকার সুযোগে বিয়ের পর থেকেই ননদের স্বামী এমাদুল আকনের প্ররোচণায় শ্বশুর, শাশুড়ী ও ননদ মিলে কারণে অকারণে বছরের পর বছর শারীরিক ও মানষিক নির্যাতন চালিয়ে আসছে। এসব কথা স্বামী কাওসার পাহলানকে জানালে তিনি ধৈর্য্য ধরার পরামর্শ দেন। শাহনাজ বলেন, কোরবানী ঈদে সন্তানদের নিয়ে দক্ষিণ আমড়াগাছিয়া গ্রামে আমার বাবার বাড়িতে গিয়েছিলাম। দুই দিন পর (৫ সেপ্টেম্বর) বাবার বাড়ি থেকে বাড়ি ফিরে দেখি রুমের তালা ভাঙা এবং ভেতরে আসবাবপত্র এলোমেলো করা রয়েছে। পরে আলমারিতে গচ্ছিত দেড় লাখ টাকা ও স্বর্ণালংকারসহ মূল্যবান কাগজপত্র না পেয়ে বিষয়টি শ্বশুর-শাশুড়ীর কাছে জানতে চাইলে কথা কাটাকাটির এক পর্যায়ে তারা সবাই মিলে আমাকে নির্যাতন করেন। এরপর থেকে আমি শরণখোলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে চিকিৎসা নিচ্ছি।
তবে, শ্বশুর ইয়াসীন পুত্র বধূর অভিযোগ ষড়যন্ত্রমূলক দাবি করে বলেন, উল্টো গেল ঈদে শাহনাজের ভাই ছাত্রলীগ নেতার নেতৃত্বে এক দল ভাড়াটে সন্ত্রাসী তার পরিবারের উপর হামলা চালিয়ে নগদ টাকা ও স্বর্র্ণালংকারসহ মূল্যবান মালামাল লুটে নিয়েছে। এঘটনায় শরণখোলা থানায় ইতোমধ্যে ৫ জনের বিরুদ্ধে মামলা দায়ের করা হয়েছে। লুটপাটের বিষয়টি ভিন্নখাতে নেয়ার জন্য শাহনাজ ঘোলাপনিতে মাছ শিকারের চেষ্টা চালাচ্ছে।

SHARE