সাতক্ষীরা প্রতিনিধি ॥ সাতক্ষীরার আশাশুনি উপজেলার ৩৬টি সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ে দপ্তরি কাম প্রহরী পদে নিয়োগ নিয়ে দুর্নীতির অভিযোগ উঠেছে। প্রতিটি বিদ্যালয়ে একজন করে নিয়োগের বিপরীতে প্রার্থীদের কাছ থেকে মাথা প্রতি ৬ লাখ থেকে ৮ লাখ টাকা আদায় করা হয়েছে। এই হিসাবে কম বেশি আড়াই কোটি টাকার দুর্নীতি হয়েছে বলে অভিযোগ পাওয়া গেছে।
জানা গেছে, বুধবার উপজেলার ৯টি সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ে নিয়োগ পরিক্ষা অনুষ্ঠিত হয়েছে। পর্যায়ক্রমে অবশিষ্ট ২৭টি প্রাথমিক বিদ্যালয়ে নিয়োগ করা হবে। এরই মধ্যে প্রতিটি বিদ্যালয়ে নিয়োগের কথা বলে নির্ধারিত পরিক্ষার্থীর কাছ থেকে আগাম টাকা হাতিয়ে নেয়া হয়েছে। এ বিষয়ে একজন প্রার্থী হাবিবুল্লাহ গাজি জেলা প্রশাসক বরাবর একটি আবেদন করেছেন। এতে তিনি নিয়োগে চরম দুর্নীতির তথ্য তুলে ধরে প্রতিকার দাবি করেছেন।
জানতে চাইলে সাতক্ষীরার জেলা প্রশাসক আবুল কাসেম মো. মহিউদ্দিন বলেন ‘নিয়োগ সংক্রান্ত কিছু অভিযোগ পেয়েছি। বিষয়টি খতিয়ে দেখে ব্যবস্থা নেয়া হবে। অভিযোগ প্রমাণিত হলে নিয়োগও বাতিল করা হবে’। ভুক্তভোগী প্রার্থীরা জানান, নোয়াপাড়া সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ে আসাদুল ইসলাম, পাইথলি সরকারি প্রাথমিকে গোপাল চন্দ্র গুহ, উত্তর চাপড়া সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ে সাইফুল্লাহ গাজি, মধ্যম চাপড়ায় আবদুর রাজ্জাক, হাজিপুর সরকারি প্রাথমিকে সেলিম বৈদ্যকে নিয়োগ দানের বিষয়টি নিশ্চিত করা হয়েছে। তারা জানান এসব প্রার্থীর কাছ থেকে আগাম টাকা গ্রহন করা হয়েছে। ফলে পরিক্ষায় অংশ গ্রহনকারী অন্য পরিক্ষার্থীরা হতাশ হয়ে ফিরে এসেছেন।
হাজিপুর সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ে চাকুরির জন্য আবেদনকারী হাজিপুর গ্রামের তৌহিদুল ইসলাম বলেন তিনিসহ ৫জন প্রার্থী পরিক্ষায় হাজির হন। অথচ তারা নিশ্চিত হন যে আগেই অন্যতম প্রার্থী সেলিম বৈদ্যের কাছ থেকে ৬ লাখ টাকা নিয়ে তার নিয়োগ নিশ্চিত করা হয়েছে।
এদিকে আজ উপজেলা পরিষদ মিলনায়তনে অনুষ্ঠিত পরিক্ষায় রাউতাড়া সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়, শীতলপুর প্রাথমিক বিদ্যালয়, উত্তর চাপড়া সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয় ও পাইথলি সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়সহ ৫টি বিদ্যালয়ে মাত্র একজন করে প্রার্থী হাজির হন বলে অভিযোগ পাওয়া গেছে। এসব প্রার্থী আগাম টাকা দিয়ে আগে থেকেই নিশ্চিত হন যে চাকুরি তারই হবে। ফলে পরিক্ষায় অন্য প্রাথীরা হাজির হননি। তবে এই পরিক্ষা বাতিল করা হতে পারে বলে জানা গেছে।
জানা গেছে, নিয়োগ বোর্ডের প্রধান উপজেলা নির্বাহী অফিসার সুষমা সুলতানা। এই বোর্ডের সদস্য সচিবের দায়িত্ব পালন করছেন উপজেলা প্রাথমিক শিক্ষা অফিসার শামসুন্নাহার খাতুন। এছাড়া স্থানীয় সংসদ সদস্য ডা. আফম রুহুল হক ও আশাশুনি উপজেলা চেয়ারম্যান এবিএম মোস্তাকিমের প্রতিনিধি যথাক্রমে শম্ভুজিত মন্ডল ও বুদ্ধদেব সরকার এবং সংশ্লিষ্ট বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক ও ম্যানেজিং কমিটির সভাপতি কমিটির সদস্য।
নিয়োগে দুর্নীতি প্রসঙ্গে জানতে চাইলে কমিটি প্রধান আশাশুনি উপজেলা নির্বাহী অফিসার সুষমা সুলতানা বলেন ‘কোন কোন বিদ্যালয়ে একজন করে প্রার্থী হাজির হয়েছেন তা এই মুহুর্তে বলা সম্ভব নয়। তবে আমরা স্বচ্ছতার ভিত্তিতে নিয়ম নীতির মধ্যে থেকেই নিয়োগ সম্পন্ন করার চেষ্টা করছি। কোনো ধরণের দুর্নীতির সুযোগ নেই’।
জানতে চাইলে নিয়োগ বোর্ডর সদস্য সচিব উপজেলা শিক্ষা অফিসার শামসুন্নাহার বলেন ‘শীতলপুর সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়, রাউতাড়া সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয় ও উত্তর চাপড়া সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ে একজন করে প্রার্থী হাজির হন। এই পরিক্ষা বাতিল হবে কিনা সে সিদ্ধান্ত নেবেন কমিটি প্রধান উপজেলা নির্বাহী অফিসার’।
তিনি জানান চাকুরি দিতে আগাম কেউ কারও কাছ থেকে কোনো টাকা গ্রহন করেছেন কিনা তা তার জানা নেই। এদিকে বুধবার বিকালে সাতক্ষীরা প্রেসক্লাবে এক সংবাদ সম্মেলন করে হাজিপুর সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ে দপ্তরি পদ প্রার্থী তৌহিদুল ইসলাম বলেন ‘চাকুরির জন্য নিয়োগ কমিটির সদস্য ম্যানেজিং কমিটির সভাপতি বকুল গাজি আওয়ামী লীগের প্রত্যয়নপত্র ও ৫ লাখ টাকা দাবি করেন। দিতে না পারায় ওই পদে সাতক্ষীরা-৩ আসনের সংসদ সদস্য রুহুল হকের প্রতিনিধি শম্ভুজিত মন্ডল ৬ লাখ টাকা নিয়ে সেলিম বৈদ্যকে নিয়োগ দেয়ার চেষ্টা করছেন’।
এ ব্যাপারে জানবার জন্য শম্ভুজিত মন্ডল ও বকুল গাজির সাথে টেলিফোনে যোগাযোগ করার চেষ্টা করে পাওয়া যায়নি।

SHARE