কয়রা (খুলনা) প্রতিনিধি ॥ কয়রায় পঞ্চরাম মন্ডল (৫৫) নামে এক দিনমুজুরকে কুপিয়ে হত্যা করা হয়েছে। ১ সেপ্টেম্বর বিকাল ৫টায় উপজেলার বামিয়া বৈরাগীরচক গ্রামের হাফিজ সরদাদেরর বসতবাড়ির আঙিনা থেকে কয়রা থানা পুলিশ লাশ উদ্ধার করে ময়না তদন্তের জন্য খুমেক হাসপাতালে পাঠায়। এ ব্যাপারে নিহতের ভাইপো অলোকেশ মন্ডল বাদি হয়ে কয়রা থানায় একটি হত্যা মামলা দায়ের করেছেন। মামলা নং-১, তারিখ ০১/০৯/২০১৭। এ ঘটনায় পুলিশ ২ জনকে আটক করে রিমান্ডে নিয়েছে। আটককৃতরা হচ্ছে উপজেলার বামিয়া বৈরাগীরচক গ্রামের মৃত গোলাম রহমানের পুত্র হাফিজ সরদার (৫৫) ও একই গ্রামের মৃত কালিপদ সানার পুত্র পরিতোষ সানা (৬০)।
জানা যায়, নিহত দিনমজুর উপজেলার গাজীনগর গ্রামের মৃত যতিন্দ্রনাথ মন্ডলের পুত্র। তিনি পার্শবর্তী বৈরাগীরচক গ্রামের পরিতোষ সানার বাড়িতে গত ২ মাস যাবৎ দিনমজুরের কাজ করে আসছিলেন। প্রতিদিনের ন্যায় শুক্রবার সকাল ৯টার দিকে পঞ্চরাম তার মালিক পরিতোষের নির্দেশে ঘাস কাটার উদ্দেশ্যে পার্শবর্তী হাফিজ সরদারের বাড়ির বাগানে যান কিন্তু বিকাল ৩টা পর্যন্ত বাড়ি ফিরে না আসায় পরিতোষ তাকে হাফিজের বাড়িতে খুঁজতে যান। এক পর্যায়ে হাফিজ সরদারের বসতবাড়ির পুকুরপাড়ের কলা বাগানের মধ্যে গলা কাটা অবস্থায় তার লাশ দেখতে পেয়ে বিষয়টি স্থানীয় ইউপি সদস্য, গ্রামবাসি ও পুলিশকে খবর দেন পরিতোষ সানা। তাৎক্ষনিক কয়রা থানা পুলিশ পঞ্চরামের মৃতদেহ উদ্ধার করে হাসপাতাল মর্গে পাঠায়। নিহতের গলার ডানপার্শে ২টা গভীর ক্ষত চিহ্ন ও বুকের ডান পার্শে ১টি ক্ষত চিহ্ন রয়েছে। নিহতের ভাইপো মামলার বাদি অলোকেশ মন্ডল জানান, মৃত্যুর কয়েকদিন আগে তার কাকা পঞ্চরাম তাকে বলেছিলেন হাফিজ সরদারের বাড়ির বাগানে ঘাস কাটতে গেলে হাফিজের লোকজন নিষেধ করেন কিন্তু মালিক পরিতোষের কথায় বাধ্য হয়ে ঘাস কাটতে যেতে হয়। মামলার তদন্তকারী কর্মকর্তা কয়রা থানার এসআই (উপ-পরিদর্শক) কিশোর কুমার বিশ্বাস বলেন, ঘটনার সাথে জড়িত সন্দেহে ২ জনকে আটক করা হয়েছে। আটককৃত ২জনকে জিজ্ঞাসাবাদের জন্য ১০ দিনের রিমান্ড আবেদন চেয়ে কয়রা সিনিয়ার জুডিশিয়াল ম্যাজিষ্ট্রেট আদালাতে প্রেরন করা হলে বিজ্ঞ আদালাত প্রকাশ্য শুনানী অন্তে ৩ দিনের রিমান্ড মঞ্জুর করেছেন। তদন্ত কাজ অব্যাহত রয়েছে।

SHARE