শরণখোলা (বাগেরহাট) প্রতিনিধি ॥ বাগেরহাটের শরণখোলায় উর্দ্ধতন কর্তৃপক্ষের নাম ভাঙিয়ে স্বতন্ত্র এবতেদায়ী মাদ্রাসার তালিকা প্রনয়ণের ক্ষেত্রে উপজেলা মাধ্যমিক শিক্ষা কর্মকর্তা লাখ লাখ টাকা হাতিয়েছেন বলে অভিযোগ উঠেছে। উপজেলার আকন্দপাড়া দাখিল মাদ্রাসার সহকারি শিক্ষক (গণিত) ও শিক্ষা অফিস পাড়ার দালাল নামে সর্বাধিক পরিচিত আবু ছালেহ এই অনৈতিক বাণিজ্যে সহযোগীতা করেছেন বলে নির্ভরযোগ্য সূত্র জানিয়েছে।
খোঁজ নিয়ে জানা যায়, গত ৪ জুলাই মাদ্রাসা শিক্ষা অধিদপ্তরের দাখিল ও এবতেদায়ী শাখার সহকারি পরিচালক ড. আব্দুল হান্নান মোল্লা স্বাক্ষরিত ৫৭.২৫.০০০০.০০৪.০২.০০৬.১৬-০৪০৮ নং স্মারকে উপজেলা পর্যায়ে প্রেরিত এক চিঠিতে এবতেদায়ী মাদ্রাসার সংখ্যা ও শিক্ষক কর্মচারীসহ প্রতিষ্ঠানগুলোর কার্যক্রম সম্পর্কে প্রতিবেদন প্রেরণের নির্দেশ দেয়া হয়। ওই সুযোগ কাজে লাগিয়ে উপজেলা মাধ্যমিক শিক্ষা কর্মকর্তা নুরুজ্জামান খান জেলা ও আঞ্চলিক কর্মকর্তাসহ উর্দ্ধতন কর্তৃপক্ষের নামে লাখ লাখ টাকা হাতানো শুরু করেন। এছাড়া প্রতিষ্ঠানগুলো বাস্তবে আছে কি, নেই তাও খতিয়ে দেখা হয়নি। সাইনবোর্ড সর্বস্ব মাদ্রাসাগুলো থেকেও ৩০ থেকে ৪০ হাজার করে টাকা দালাল ছালেহ’র মাধ্যমে হাতিয়ে নিয়েছেন শিক্ষা কর্মকর্তা নুরুজ্জামান। তবে অধিকাংশ মাদ্রাসার লেনদেনে মধ্যস্থ করেছেন দালাল শিক্ষক আবু ছালেহ। এদিকে শিক্ষা কর্মকর্তা নিজ কার্যালয়ে বসে উপজেলার ৪ ইউনিয়নের বিভিন্ন এলাকার ৪১টি এবতেদায়ী মাদ্রাসার মন গড়া প্রতিবেদন তৈরি করে প্রেরণ করেছেন। যার মধ্যে ৪/৫টি মাদ্রাসার বাস্তবে অবকাঠামো থাকলেও বাকিগুলোর কার্যক্রম রয়েছে দীর্ঘদিন ধরে বন্ধ।
অপরদিকে, এ সুযোগ কাজে লাগাতে স্থানীয় একটি স্বার্থেন্বেষী মহল চাকুরির প্রলোভন দেখিয়ে বেকার যুবকদের কাছ থেকে মোটা অংকের টাকা হাতানোর পায়তারা চালাচ্ছে। আবার কেউ কেউ পূর্বের তারিখ ও সাল দেখিয়ে ভূয়া কাগজপত্র তৈরি করে মাদ্রাসা প্রতিষ্ঠার উদ্যোগ গ্রহণ করেছে।
পরিচয় প্রকাশ না করার শর্তে এক শিক্ষক বলেন, বর্তমান শিক্ষা কর্মকর্তা যোগদানের পর থেকে শিক্ষক নামধারী দালাল আবু ছালেহ কোন প্রকার ক্লাশ নেন না। সব সময় তার লেজ ধরে পিছু পিছু হাটছে এবং ওই কর্মকর্তার নানা অনৈতিক কর্মকান্ডের সহযোগি হিসাবে কাজ করছেন। আবু ছালের মাধ্যমে ওই শিক্ষা কর্মকর্তা ১৫০ থেকে ২০০ টাকা পর্যন্ত ঘুষ নিতে দ্বিধাবোধ করেন না। এছাড়া তিনি শরণখোলায় যোগদানের পর শিক্ষার্থীদের পড়া লেখার মান উন্নয়নে কাজ না করে দিন রাত অর্থ হাতানোর ধান্দায় ব্যস্ত থাকছেন।
অপরদিকে, ২০১৬ সালে এ উপজেলায় যোগদানের পর একই বছরের ২৮ নভেম্বর উপজেলার ১১টি বিদ্যালয়ে প্রশ্নপত্র সরবরাহের নামে ব্যাপক বাণিজ্যে মেতে ওঠেন বলে অভিযোগ রয়েছে। এ বিষয়ে উপজেলা মাদ্রাসা শিক্ষক সমিতির এক নেতা বলেন, শিক্ষক ছালের বিতর্কিত কর্মকান্ডের বিষয়গুলো সমিতির অনেকেই অবগত। শীঘ্রই তার বিরুদ্ধে সংগঠনের পক্ষ থেকে ব্যবস্থা নেয়া হবে। তবে, কর্মকর্তা নুরুজ্জামানের অর্থ বাণিজ্যের বিষয়টি দেখার এখতিয়ার উর্দ্ধতন কর্তৃপক্ষের।
তবে এসব বিষয় কাল্পনিক দাবি করে মাধ্যমিক শিক্ষা কর্মকর্তা নুরুজ্জামান খান বলেন, তিনি কেবলমাত্র উপজেলার এবতেদায়ী মাদ্রাসার সংখ্যা ও কার্যক্রমের একটি প্রতিবেদন পাঠিয়েছেন। সেখানে কারো নাম ভাঙিয়ে অর্থ হাতানোর প্রশ্নই ওঠে না। অভিযোগটি একটি মহলের গভীর ষড়যন্ত্র ছাড়া আর কিছুই না।
এ বিষয় জেলা মাধ্যমিক শিক্ষা কর্মকর্তা কামরুজ্জামান জানান, বিষয়টি তার জানা নেই। তবে, খোঁজ খবর নিয়ে দেখবেন।

SHARE