মহেশপুর (ঝিনাইদহ) প্রতিনিধি॥ ঝিনাইদহের মহেশপুর উপজেলার সীমান্ত বর্তি লেবুতলা গ্রামের এক সুদ খোরের অত্যাচারের তিন পরিবার বাড়ীঘর ছেড়ে প্রাণ ভয়ে পালিয়ে অন্যত্র আশ্রয় নিয়েছে।
এলাকাবাসী সুত্রে জানাগেছে, লেবুতলা গ্রামের আফছার আলীর ছেলে এলাকার চিন্থিত সুদ খোর আব্দুল গনি একই গ্রামের আজিজুল ও শফিকুল কে ২ লাখ টাকা সুদে ব্যবসা করতে দেয়। তারা সুদের টাকা পরিশোধ করার পরও তাদের পিতার নামে থাকা একবিঘা জমি জোর পুর্বক লিখে নেওয়া হয়েছে। পরে অবশিষ্ট বাড়ীর জমিও লিখে নিতে গেলে ভিটার জমি রক্ষা করতে রাতের অন্ধকারে পিতা মাতা ও দুই ভাই ৪ বছর ধরে পালিয়ে বেড়াচ্ছেন। গতকাল বুধবার সরেজমিন যেয়ে দেখা যায় দুইটি আধাপাকা বাড়ী পরিত্যক্ত অবস্থায় পড়ে আছে। প্রতিবেশি হালিমা খাতুনের সাথে কথা বলে জানা যায় শফিকুল ও আজিজুল আব্দুল গনির কাছ থেকে সুদকরে টাকা নিয়ে ব্যবসা করতো। তবে তারা গনি কে প্রতিমাসে সুদের টাকা দিত। পরে দেনার দায়ে শফিকুল ২ মেয়ে ও ১ ছেলে আর আজিজুল ২ মেয়ে ও স্ত্রী কে নিয়ে ৪ বছর ধরে বাড়ী ছাড়া হয়ে পালিয়ে রয়েছেন। তবে তাদের পিতা-মাতা পৃথক ভাবে সংসার চালাতেন। এলাকার গনি সহ কয়েকজন লোক তাদের বাবার কাছ থেকে একবিঘা জমি লিখে নেওয়ার পর ভিটাবাড়ীও লিখে নিতে চাওয়ায় তার পিতা-মাতা বাড়ী ছেড়ে চলে গেছেন। তবে তারা কোথায় আছে জানা নেই কারও।
এদিকে এলাকায় সাংবাদিক যাওয়ার খবর শুনে আরো কয়েকজন নাম প্রকাশ না করার শর্তে আব্দুল গনির বিরুদ্ধে এলাকার মানুষের উপর জুলুম অত্যাচারের খবর বলেন। এক বছর পূর্বে মাঠিলা গ্রামের সিরাজুল কে সুদের টাকার জন্য নিম গাছে বেধে টাকা আদায় করেছে এলাকার সুদ খোর আব্দুল গনি। এছাড়া মাঠিলা গ্রামের হব কুলের ছেলে রাজ্জাক কে সুদের টাকার জন্য ১৫ দিন অপহরন করে রেখে তিন বিঘাজমি জোর পুর্বক রেজিষ্ট্রি করে নিয়েছে। এছাড়া সে লেবুতলার একটি সরকারী বিল কে কেন্দ্র করে এলাকায় মাইকিং করে মৃত ইলিয়াস আলী মল্লিকের ছেলে মিজানুর রহমানের কাছে দেড় লাক্ষ টাকা চাঁদা দাবী করে। সূত্রটি বলছে আব্দুল গনি সরকার দলের সমর্থক হওয়ায় তার বিরুদ্ধে কেউ টু শব্দ করতে সাহস পায়না। থানা থেকে লেবুতলা একে বারেই সীমান্ত ঘেষা গ্রাম হওয়ার কারণে সে সব সময় থাকে ধরা ছোঁয়ার বাইরে।
এ ব্যপারে আব্দুল গনির কাছে জানতে চাইলে তিনি জানান, আমি সুদ খাই,তারা আমার কাছ থেকে সুদ করে দুই লাখ টাকা নিয়েছিলো। আমার মত আরো অনেকের কাছ থেকে টাকা নিয়ে দিতে না পারার কারণে তারা বাড়ী ছেড়ে চলে গেছে। সিরাজের ব্যাপারে জানতে চাইলে তিনি জানান তার কাছ থেকে সুদের টাকা আদায় হয়ে গেছে। রাজ্জাক কে ১৫ দিন অপহরন করে রেখে তিন বিঘাজমি লিখে নিয়েছেন কিনা জানতে চাইলে তিনি জানান তাকে অপহরন করা হয়নি তবে তিন বিঘা জমি লিখে নেওয়া হয়েছে। মসজিদের মাইকে মিজানুরের কাছে চাঁদা চাওয়া হয়েছে কিনা জানতে চাইলে তিনি জানান একটি সরকারী বিলকে কেন্দ্র করে তার কাছে টাকা চাওয়া হয়েছে গ্রামের ঈদগাহ সংস্কারের জন্য।
তিনি একা কেন ঈদগাহ সংস্কারের জন্য টাকা দিবেন প্রশ্ন করলে তিনি বলেন আমি তো একা সুদ খাইনা এই গ্রামের আব্দুল রশিদ, আব্দুর রহিম, শরিফুল, মনি, ফজর আলী, ইদ্রিস, আবু কালাম, আশাদুল, নাজিম, বিপুলসহ আরো অনেকে তাদের কাছে সুদের টাকা পাবে। এদিকে যাদবপুর ইউনিয়নের লেবুতলা ও মাঠিলা গ্রামের ইউপি সদস্য আব্দুল মান্নান জানান ওই পরিবারের লোকজনের কাছে এলাকার মানুষ সুদের টাকা পাবে বলে শুনেছি তবে তারা বাড়ী ছাড়া কিনা আমার জানা নেই।

 

SHARE