নড়াইলে শেষ মুহূর্তে জমে উঠেছে কোরবানির পশু হাট

নড়াইল প্রতিনিধি ॥ নড়াইলে শেষ মূহুর্তে জমে উঠেছে কোরবানির পশু হাট। এবছর পশুর হাটগুলোতে মাঝারি গরুর ছাহিদা বেশি। তাই বড় গরুর তুলনায় মাঝারি গরুর দামও বেশ চড়া। জেলার ৩ উপজেলায় মোট ১৩টি হাটে গত এক সপ্তাহ আগে থেকে কোরবানির গরু বেচাকেনা শুরু হয়েছে। গত সোমবার ছিল লোহাগড়া হাট। এ হাটে বৃহস্পতিবার গরু বেচাকেনা হলেও কোরবানির ঈদ উপলক্ষে সোমবারও পশুর হাট বসেছিল। এ হাট থেকে লোহাগড়ার বাসিন্দা আকরামুজ্জামান মিলু ৪৫ হাজার টাকা দিয়ে একটি গরু কিনেছেন। এ হাটের আরেক ক্রেতা খায়রুল ইসলাম জানান, সোমবারের হাটে মাঝারি গরুর দাম ছিল তুলনামূলক বেশি। দাম বেশি থাকার কারণে অধিকাংশ ক্রেতা এ সপ্তাহের শেষের হাট বৃহস্পতিবার গরু কিংবা কোরবানির পশু কিনবেন বলে এ প্রতিনিধিকে জানান। গত মঙ্গলবার (২৯ আগষ্ট) সকাল থেকে পশুর হাট জমে উঠেছে সদর উপজেলার নাকশী-মাদ্রাসা পশুর হাট। বিভিন্ন দূর-দূরান্ত এলাকা থেকে পিকআপ, নসিমনে করে ভোর থেকে গরু, ছাগল বিক্রির জন্য আনা হয় এই হাটে। বেচা-কেনা চলে রাত পর্যন্ত। এছাড়া কোরবানির আগে বৃহস্পতিবার লোহাগড়া ও দিঘলিয়া পশুর হাটে এবং শুক্রবার সদর উপজেলার মাইজপাড়া হাটে কোরবানির বেচাকেনা চলবে বলে ক্রেতা-বিক্রেতারা জানিয়েছেন।
জেলা প্রাণি সম্পদ অফিস সূত্রে জানা যায়, নড়াইল সদর উপজেলায় ৩টি, লোহাগড়া উপজেলায় ৫টি এবং কালিয়া উপজেলায় ৫টি গরুর হাট রয়েছে। এছাড়া ঈদ-উল-আযহা উপলক্ষে জেলার বিভিন্ন স্থানে অস্থায়ীভাবে বেশ কয়েকটি পশুর হাট গড়ে উঠেছে। জেলা প্রাণি সম্পদ কর্মকর্তা ডা: মোহাম্মদ মারুফ হাসান জানান, এ জেলায় ছোট বড় ৪ হাজারটি খামার রয়েছে। এরমধ্যে নড়াইল সদর উপজেলায় ১ হাজারটি, লোহাগড়া উপজেলায় ১ হাজার ৫শ’টি এবং কালিয়া উপজেলায় ১ হাজার ৫শ’টি। এসব খামারে কোরবানির ঈদে বেচাকেনার জন্য ২৪ হাজার ৫৩১টি গরু বেচা-কেনার প্রস্তুত করা হয়েছে। এছাড়া ৫ হাজার ৬৮১টি ছাগল কোরবানির ঈদে বিক্রির উপযুক্ত রয়েছে। খামারিদের সঙ্গে সবসময় আমরা সব সময় যোগাযোগ রাখছি। কেউ যাতে পশুর শরীরে ক্ষতিকর ইনজেকশন পুশ করতে না পারে সে লক্ষ্যে আমাদের তদারকি অব্যাহত রয়েছে। প্রতিটি হাটে আমাদের মেডিকেল টিম রয়েছে। গরু মোটা তাজাকরণ লাভজনক পেশা হওয়ায় অনেকে পশু সম্পদ বিভাগ থেকে প্রশিক্ষণ নিয়ে এ পেশার দিকে ঝুঁকছেন এবং অনেক বেকার যুবক এ পেশায় এসে স্বাবলম্বী হয়েছেন বলে জানান জেলা প্রাণি সম্পদ কর্মকর্তা। নড়াইল সদর উপজেলা প্রাণী সম্পদ কর্মকর্তা ডা: মোহাম্মদ রাশেদুল হক জানান, তিনি ইতোমধ্যে নাকশী-মাদ্রাসা পশুর হাটসহ বিভিন্ন হাট পরিদর্শন করেছেন। এ জেলার খামামিরা প্রাকৃতিক খাদ্য খাইয়ে ও বৈজ্ঞানিক পদ্ধতিতে গরু মোটাতাজাকরণ করেছে। এদিকে গরু ক্রেতা, বিক্রেতাসহ ব্যবসায়ীদের নিরাপত্তা ও জালনোটের লেনদেন বন্ধের জন্য পুলিশ প্রশাসনের পক্ষ থেকে বিশেষ উদ্যোগ গ্রহণ করা হয়েছে। পুলিশ সুপার সরদার রকিবুল ইসলাম জেলার বিভিন্ন বড় বড় পশুর হাটে গিয়ে জালনোটের লেনদেন বন্ধে ক্রেতা-বিক্রেতাদের মাঝে সচেতনতা মূলক প্রচারণা চালাচ্ছেন। পাশাপশি বিভিন্ন হাটে আগত ক্রেতা ও ব্যবসায়ীদের সার্বিক নিরাপত্তার লক্ষ্যে পুলিশী ব্যবস্থা জোরদারের কথা জানাচ্ছেন।

SHARE