বাগেরহাট প্রতিনিধি ॥ বাগেরহাটের চিতলমারীর বিভিন্ন মাধ্যমিক বিদ্যালয়ে অডিটের নামে অর্থ আদায়ের অভিযোগ উঠেছে এক সহকারী শিক্ষা পরিদর্শকের বিরুদ্ধে। ইতিমধ্যে ওই কর্মকর্তার বিরুদ্ধে শিক্ষা অধিদপ্তরসহ সংশি¬ষ্ট দপ্তরে অভিযোগ পাঠিয়ে তদন্ত দাবি করেছেন শিক্ষকরা। তবে এখনো পর্যন্ত উপরিমহল থেকে কোন রকমের সাড়া মেলেনি। এনিয়ে ক্ষতিগ্রস্ত শিক্ষকদের মধ্যে চাপা ক্ষোভের সৃষ্টি হয়েছে।
অভিযোগ সূত্রে জানা গেছে, চলতি বছরের ৩ জুন উপজেলার চরবানীয়ারী ইউনিয়ন বালিকা বিদ্যাপীঠসহ মোট ৭টি বিদ্যালয়ে শিক্ষা অধিদপ্তরের সহকারী শিক্ষা পরিদর্শক কাওসার হোসেন পরিদর্শন করেন। পরিদর্শনকালে তিনি এসব স্কুলের কাগজপত্র দেখে শিক্ষকদের নানা ধরণের ত্রুটি ও সমস্যা তুলে ধরেন। এসব ত্রুটির কারণে শিক্ষকদের বেতন-ভাতা বন্ধ হয়ে যেতে পারে বলে ভয় দেখানো হয়। বিষয়টি সমাধানের জন্য ৬ জুন এসব বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষকদের উপজেলা ডাকবাংলোয় তার সাথে সাক্ষাত করতে বলা হয়। যথারীতি ওইসব শিক্ষকরা সহকারী শিক্ষা পরিদর্শক কাওসার হোসেনের সাথে ডাকবাংলোয় দেখা করতে যান কিন্তু সেখানে গেলে প্রত্যেক বিদ্যালয়ের শিক্ষকদের কাছে ১ মাসের বেতনের টাকা দাবি করেন কাওসার হোসেন। দাবিকৃত অর্থ দিতে ব্যর্থ হলে স্কুলের এমপিও বাতিল করা হবে বলেও হুমকি দেয়া হয়। এ পরিস্থিতিতে ৬টি বিদ্যালয় থেকে দাবিকৃত অর্থ কয়েক দিন আগে পরিশোধ করা হলেও চরবানীয়ারী ইউনিয়ন বালিকা বিদ্যাপীঠ এ অর্থ দিতে অস্বীকৃতি জানায়। এ বিষয়ে চরবানীয়ারী ইউনিয়ন বালিকা বিদ্যাপীঠের প্রধান শিক্ষক রবীন্দ্রনাথ ঘরামী শিক্ষা অধিদপ্তরের সহকারী শিক্ষা পরিদর্শক কাওসার হোসেনের বিরুদ্ধে গত মঙ্গলবার জেলা শিক্ষা অফিসসহ সংশি¬ষ্ট দপ্তরে স্কুল অডিটের নামে অর্থ আদায়ের অভিযোগ দায়ের করেছেন। এ বিষয়ে ঘটনার তদন্ত দাবি করেছেন ক্ষতিগ্রস্ত শিক্ষকরাও। বিষয়টি নিয়ে শিক্ষকদের মধ্যে চরম ক্ষোভের সৃষ্টি হয়েছে।
চরবানীয়ারী ইউনিয়ন বালিকা বিদ্যাপীঠের প্রধান শিক্ষক রবীন্দ্র নাথ ঘরামী জানান, স্কুল অডিটের নামে তাদের প্রতিষ্ঠানের নানা ত্রুটি ও সমস্যা দেখিয়ে শিক্ষা অধিদপ্তরের সহকারী শিক্ষা পরিদর্শক কাওসার হোসেন সব শিক্ষকদের ১ মাসের বেতন প্রায় ৩ লাখ টাকা তাদের কাছে দাবি করেন। অবনী নামে এক প্রধান শিক্ষকের মাধ্যমে এই অর্থ লেনদেন করতে বলা হয়। এ টাকা দিতে অস্বীকৃতি জানানো হলে ওই স্কুলের এমপিও বাতিল করা হবে বলে হুমকি দেয়া হয়েছে। এ অবস্থায় কোন উপায়ান্তর না পেয়ে তিনি নিজেই বিভিন্ন দপ্তরে অভিযোগ দায়ের করেছেন। এ ঘটনায় ওই বিদ্যালয়ের শিক্ষক কর্মচারীরা চরম হতাশায় ভুগছেন। এ বিষয়ে শিক্ষা অধিদপ্তরের সহকারী শিক্ষা পরিদর্শক কাওসার হোসেনের ০১৭০৬৯৮০৮০৯ ও ০১৯২৬৭১১৬৫০ নম্বর মোবাইলে ফোন করা হলে তিনি রিসিভ করেননি।
এ ব্যাপারে শিক্ষা অধিদপ্তরের পরিচালক প্রফেসর আহম্মেদ সাজ্জাদ রশীদের সাথে টেলিফোনে কথা হলে তিনি জানান, বিষয়িিট খতিয়ে দেখা হচ্ছে। এ জাতীয় অভিযোগের সত্যতা পেলে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহন করা হবে।

SHARE