শরণখোলায় ধর্ষণ মামলার আসামির ষড়যন্ত্রের জালে ২৬ দিনমজুর !

শরণখোলা (বাগেরহাট) প্রতিনিধি ॥ বাগেরহাটের শরণখোলায় তুচ্ছ ঘটনার জের ধরে ২৬ দিনমজুরের বিরুদ্ধে ষড়যন্ত্রমূলক মামলা দায়ের করেছেন এক ধর্ষণ মামলার আসামি জামায়াত নেতা দেলোয়ার হোসেন তালুকদার নামের এক প্রভাবশালী। এনিয়ে স্থানীয়দের মধ্যে ক্ষোভের সৃষ্টি হয়েছে।
অনুসন্ধানে জানাযায়, উপজেলার দক্ষিণ রাজাপুর গ্রামের বাসিন্দা মৃত: রাশেদ তালুকদারের ছেলে স্থানীয় জামায়াতের সেক্রেটারী ও সুন্দরবনের এক সময়ের কুখ্যাত বনদস্যু ফেরাউন বেল্লালের সহযোগী দেলোয়ার হোসেন তালুকদার ডিসিয়ার মুলে প্রাপ্ত ভরাট হওয়া ভোলা নদীর চরের কিছু সরকারি সম্পত্তি নিয়ে স্থানীয় শাহআলম হাওলাদারের সাথে বিরোধে জড়িয়ে পড়ে। বিষয়টি থানা পুলিশের হস্তক্ষেপে নিস্পত্তি করা হলে জামায়াত নেতা দেলোয়ার ওই জমি ভোগ দখল থেকে বঞ্চিত হন। এতে দেলোয়ার ক্ষিপ্ত হয়ে প্রতিপক্ষ শাহআলমসহ স্থানীয় দিনমজুর জামাল সর্দার, খোকন হাওলাদার, আলামিন হাওলাদার, জাফর হাওলাদার, আফজাল চাপরাশী, বাবু চাপরাশী, বাবুল বয়াতী, সালাম ফরাজী, আসাদ ফরাজী, নুরুল হক ফরাজী, মাসুম ফরাজী, হারেজ হাওলাদার, ইয়াকুব হাওলাদার, নাসির হাওলাদার, কালাম মুন্সী, রাজ্জাক গাজী, এমাদুল মোল্লা, আলমগীর হাওলাদার, জাহাঙ্গীর তালুকদার, কালাম হাওলাদার, সামাদ সর্দার, সুলতান হাওলাদার, হারুন মাষ্টার ও কামাল বয়াতীসহ ২৬ দিনমজুরের বিরুদ্ধে কাল্পনিক অভিযোগ তুলে হয়রানীর উদ্দেশ্যে বাগেরহাট আদালতে গত ২৪ আগষ্ট একটি ষড়যন্ত্রমূলক মামলা দায়ের করেন। একই সাথে র‌্যাব-৬ এর কার্যালয়ে একটি অভিযোগ দাখিল করেন। এদিকে গণহারে স্থানীয় দিনমজুরদের আসামি করে মামলা দায়ের করায় স্থানীয় জনসাধারণের মধ্যে চরম ক্ষোভের সৃষ্টি হয়েছে। এলাকার সংরক্ষিত মহিলা আসনের মহিলা ইউপি সদস্য লাইলী কাঞ্চন, ইউপি সদস্য রুহুল আমীন, গ্রামপুলিশ শহিদুল ইসলাম, মু্িক্তযোদ্ধা হারুন-অর-রশিদ, দেলোয়ারের মা রোকেয়া বেগম, ছোট বোন আকলিমা বেগম, ভাই নাসির তালুকদার, স্কুল পড়–য়া ছেলে আব্দুল্লাহসহ স্থানীয় আরও অনেকে জানিয়েছেন, মারপিটের যে বানোয়াট অভিযোগ তুলে মামলা দায়ের করা হয়েছে তা ¯্রফে ষড়যন্ত্র। এ ধরনের কোন ঘটনা ওই এলাকায় সম্প্রতি ঘটেনি। মামলাবাজ দেলোয়ারের সাথে স্থানীয় বাসিন্দা শাহআলমের জমি নিয়ে বিরোধ থাকায় তার জের হিসাবে মারপিটের নাটক সাজিয়ে তিনি গ্রামের নিরীহ ব্যক্তিদের বিরুদ্ধে ষড়যন্ত্রমূলক মামলা দায়ের করেছেন। এদিকে মামলাটি বাংলাদেশ পুলিশ ইনভেসটিগেশন ব্যুরোকে তদন্তের জন্য দায়িত্ব প্রদান করেছে আদালত। জামায়াত নেতা দেলোয়ারের নানা অপকর্মের বিষয় উপজেলা স্বেচ্ছাসেবক লীগের আহ্ববায়ক রোকনুজ্জামান বিপ্লব বলেন, দেলোয়ার স্থানীয় দু:চরিত্রের। সে গত ২০১২ সালে দক্ষিণ রাজাপুর এলাকার একটি হতদরিদ্র পরিবারের নবম শ্রেনীর ছাত্রীকে জোর পূর্বক ধর্ষণ করে। পরে ওই ছাত্রী ৪ মাসের অন্ত:সত্ত্বা হয়ে পড়লে দেলোয়ার তার অবৈধ গর্ভপাত ঘটায়। এ ঘটনায় নির্যাতিত ছাত্রীর মা বাদি হয়ে গত ২০১৩ সালের জানুয়ারি মাসে দেলোয়ারের বিরুদ্ধে শরণখোলা থানায় নারী ও শিশু নির্যাতন দমন আইনে একটি মামলা রজু করেন। মামলা নং-১২, তারিখ- ১৯/০১/২০১৩। ওই মামলাটি বর্তমানে বাগেরহাট আদালতে বিচারাধীন। ইতিমধ্যে ওই মামলায় দেলোয়ার দু’দফা জেল খেটে সম্প্রতি জামিনে ফিরছেন। তার অত্যাচার ও নানা প্রকার হুমকির কারনে ওই স্কুল ছাত্রীর পরিবারটি ইতোমধ্যে এলাকা ছেড়ে পালিয়ে গেছে। দেলোয়ারের নানা কুকর্মের বিষয়গুলো খতিয়ে দেখে প্রশাসনের কঠোর পদক্ষেপ নেয়া উচিত।
এ বিষয়ে শরণখোলা থানা পুলিশের অফিসার ইনচার্জ (ওসি) আব্দুল জলিল জানান, দেলোয়ার খারাপ প্রকৃতির লোক। ষড়যন্ত্র মূলক মামলা দিয়ে সাধারন মানুষকে হয়রানী করা তার নেশা ও পেশা। তার অভিযোগের সত্যতা পাওয়া যায়নি। এদিকে বহু অপকর্মের হোতা দেলোয়ার তালুকদার দাবি করেছেন, স্থানীয় আওয়ামী নেতা আফজাল হোসেন ও তার বাহিনীর অত্যাচারে তিনি অতিষ্ট। তাই তিনি মামলা দিতে বাধ্য হয়েছেন।

SHARE