কালীগঞ্জের ড্রাগন চাষে বোরহান উদ্দিনের অভাবনীয় সাফল্য

নয়ন খন্দকার, কালীগঞ্জ ॥ দক্ষিণাঞ্চলের প্রথম ড্রাগন ফল চাষি ঝিনাইদহ কালীগঞ্জের পুকুরিয়া গ্রামের বোরহান উদ্দিন। প্রথমে তিনি ১ বিঘা জমিতে ড্রাগন চাষ করে যাত্রা শুরু করেন। ড্রাগন ফল দেখতে সাদা ধবধবে। অপরুপ ফুলের সৌন্দর্য্য। ভোর বেলা ক্ষেতের পাশে অনেকে ভীড় জমায়। ড্রাগনের ফুল রাতে ফুটে ভোরের আলোতেই নষ্ট হয়ে যায়। বিদেশী এই ফল চাষে এলাকায় রীতিমত সাড়া ফেলে দিয়েছেন বোরহান উদ্দিন। বোরহান উদ্দিন উপজেলার খামার মুন্দিয়া গ্রামের মাঠে ২০১৪ সালে ১ বিঘা উচু জমিতে ৫৮০টি ড্রাগনের চারা রোপন করেছিলেন। সঠিক পরিচর্যা করায় ১৬ মাস পর গাছে পরিপুষ্ট ফল এসেছিল। রফতানিযোগ্য এই ফলের ভবিষ্যৎ বাণিজ্যিক সম্ভাবনা নিয়ে আশাবাদি এ সৌখিন ফলচাষি প্রথম বছরই লাভের মুখ চোখে দেখেছিল।
বোরহান উদ্দিন কালীগঞ্জ উপজেলার ইউনিভার্সেল পোল্ট্রি হ্যাচারীজ লিঃ এর মাকের্টিং ম্যানেজার হিসেবে কর্মরত। সেই সুবাদে প্রতিষ্ঠানের পরিচালক কৃষিবিদ ড. রুস্তুম আলীর সহচার্য পান। তারই পরামর্শ ও সহযোগিতায় ২০১৪ সালের ফেব্রুয়ারী মাসে উপজেলার খামার মুন্দিয়া গ্রামের মাঠে এক বিঘা উচু জমি লিজ নিয়ে ড্রাগন চাষ শুরু করেন। ড. রুস্তুম আলী ড্রাগন চাষ শুরু করার লক্ষে ময়মনসিংহ কৃষি বিশ্ববিদ্যালয়ের ফার্ম থেকে ড্রাগনের চারা এনে দেন। তার নির্দেশিত চাষ পদ্ধতি অনুস্মরন করে নির্দিষ্ট সময়ের আগেই গাছে ফল এসেছিল। বোরহান উদ্দিন দক্ষিনবঙ্গের প্রথম ড্রাগন চাষ শুরু করেন। তিনি জানান, প্রথমে ১ বিঘা জমিতে চাষ শুরু করতে খরচ হয় প্রায় ২ লাখ টাকা। ১ বৎসর পরে ড্রাগন ফল আসে। প্রথম বৎসরে সব খরচ বাদে ফল বিক্রি করে লাভ হয় ৩৫ হাজার টাকা। ওই বৎসরে ড্রাগ ফলের চারা বিক্রি করে খরচ বাদে লাভ হয় ১ লক্ষ ২০ হাজার টাকা। পরের মৌসুমে খরচ বাদে ফল বিক্রি করে লাভ হয় ৪ লাখ ২০ হাজার টাকা। চলতি মৌসুমে এ পর্যন্ত ফল বিক্রি হয়েছে ২ লক্ষাধিক টাকা ও চারা বিক্রি হয়েছে প্রায় ৭ লাখ টাকা। আশা করা হচ্ছে এ মৌসুমে আরো ৫ লাখ টাকার ড্রাগন ফল বিক্রি করা হবে। বোরহান জানান, আরো ১ একর জমিতে ড্রাগন ফলের চারা রোপন করেছে। এ বৎসরে তিনি যে পরিমান চারা বিভিন্ন অঞ্চলে বিক্রি করেছেন তাতে আনুমানিক ২০ বিঘা জমি চাষ করা যাবে। বছরের যে কোন সময়ই গ্রীষ্মকালীন এ ফলের চাষ করা যায়। সাধারণত জুলাই আগষ্টে ফল পাকতে শুরু করে। ফুল আসার ৪০ থেকে ৪৫দিনের মাথায় ফল পেকে যায়।
ড্রাগনের চারা একবার রোপন করলে ৩০/৩৫ বছর পর্যন্ত এক নাগাড়ে ফল দেয়। সেক্ষেত্রে ২য় বছর থেকে চাষ বাবদ খরচ একেবারেই কম লাগে। এ কারণে এ ফল চাষ যথেষ্ঠ লাভজনক হবে বলে তিনি আশাবাদি।

SHARE