কালীগঞ্জ থানা পুলিশের অনিয়ম দুর্নীতি নিয়মে পরিণত

নিজস্ব প্রতিবেদক, কালীগঞ্জ ॥ ‘পুলিশ জনগনের বন্ধু’ বা ‘সেবাই পুলিশের ধর্ম’ বলে থানার দেয়ালে লেখা থাকলেও বাস্তবে এর কোন প্রতিফলন নেই। ঝিনাইদহ জেলার কালীগঞ্জ থানা পুলিশের নাম শুনলেই সাধারন মানুষ ভয়ে আঁতকে ওঠে। কারণ ছাড়াই ধরপাকড় জুলুমবাজি ভয়ভীতি দেখিয়ে টাকা আদায়সহ নানা অনিয়ম নিয়মে পরিণত হয়েছে। এনিয়ে ভুক্তভোগীদের মধ্যে চাপা ক্ষোভের দানা বেধে উঠেছে। তবে অর্থদন্ডসহ হয়রানীর ভয়ে কেউ মুখ খুলতে চান না।
বিভিন্ন সুত্রের অভিযোগ, কালীগঞ্জ থানার পুলিশ মাদক ও সন্ত্রাসী বিরোধী অভিযানের নামে অনেক সাধারণ মানুষকে ধরপাকড় করে নানাভাবে ফাঁসিয়ে দিচ্ছেন। যখন তখন যেকোন মানুষের পকেটে হাত ঢুকিয়ে গুজে দিয়ে ইয়াবা অথবা গাজার পুরিয়া উদ্ধার দেখিয়ে অর্থ আদায়সহ হয়রানী করছে বলে বিস্তর অভিযোগ চাউর হয়েছে। সুত্রমতে, পরে তাদের কাছ থেকে মোটা অংকের উৎকোচ আদায় করে ছেড়ে দেয়া হয় অথবা ৩৪ বা ৫৪ ধারায় আদালতে চালান দেয় কালীগঞ্জ থানা পুলিশ। এখানকার পুলিশ স্ববলের বন্ধু আর দুর্বলের দুশমনে পরিণত হয়েছে। কারন দুর্বলরা তাদের চাহিদামত উৎকোচ দিতে পারে না। যার কারনে অনেক অসহায় মানুষের এজাহারও অনেক সময় থানায় নেয়া হয় না।
সূত্র জানায়, কালীগঞ্জের অলিতে গলিতে দিনরাত মাদকের বিকিকিনি চলে। অথচ পুলিশ এসব মাদক ব্যবসায়ীদের গ্রেফতার না করে সেবনকারীদের আটক করেন বলে অভিযোগ করেছেন কালীগঞ্জবাসী। যে বিষয়টি একাধিকবার কালীগঞ্জ উপজেলা আইন-শৃংখলা কমিটির সভায় অনেকে উপস্থাপন করেছেন। কিন্তু পুলিশ তাদের গ্রেফতার না করে গ্রেফতার করছে সেবনকারীদের। একই শহর থেকে অন্যান্য আইন শৃংখলা রক্ষাকারী বাহিনীর সদস্যরা বড় বড় মাদকের চালান উদ্ধার করলেও কালীগঞ্জ থানা পুলিশ মাদকের বড় কোন চালান উদ্ধার করতে দেখাতে পারছে না।
গোপন একটি সূত্র জানায়, থানায় বড় কোন অপরাধী আটক বা গ্রেফতার হলে বেশ কিছু তদবীরকারী সঙ্গে সঙ্গে থানায় যেয়ে হাজির হন। এসব তদবীরকারীর সাথে পুলিশের গোপন আতাত রয়েছে। তাদের মধ্যস্থতায় আটক হওয়া বড় বড় মাদক ব্যবসায়ী বা অপরাধীরা রক্ষা পেয়ে যায়। তাদের আটক বা গ্রেফতারের সুনির্দিষ্ট কোন তথ্যও পুলিশ সাংবাদিকদের দিতে চায় না। পরে প্রচার দেয়া হয় অভিযোগের সত্যতা না পাওয়ার কারণে তাদের ৫৪ বা ৩৪ ধারায় চালান দেয়া হয়েছে। অথবা রাজনৈতিক নেতাদের তদবীরে ছেড়ে দেয়া হয়েছে। নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক একাধিক ব্যক্তি অভিযোগ করেছেন, দক্ষিণাঞ্চলের জালিয়াত চক্রের হোতা হামিদুজ্জামান জলিলকে পুলিশ আটক করে মোটা অংকের উৎকোচের বিনিময়ে আদালতে ৫৪ ধারায় চালান দিয়েছে। বিষয়টি লজ্জাজনক। তারা আরো জানান, যে ব্যক্তির বাড়িতে র‌্যাব অভিযান চালিয়ে হাইকোর্টের জাল সীলসহ বিভিন্ন দপ্তরের শতাধিক সীল ও ভুয়া কাগজপত্র উদ্ধার করে। যে ব্যক্তি ম্যাজিস্ট্রেট ও জজদের স্বাক্ষর জাল করে ভুয়া ওয়ারেন্ট তৈরি করে সাধারন মানুষকে হয়রানী করে তাকে পুলিশ কিভাবে ৫৪ ধারায় চালান দেয় ? পুলিশ তো নিজেই বাদি হয়ে তার বিরুদ্ধে মামলা দিতে পারতো। ঝিনাইদহ সদর উপজেলা মানবাধিকার বাস্তবায়ন সংস্থার সাধারণ সম্পাদক ও বিশিষ্ট সাংবাদিক অধ্যক্ষ আমিনুর রহমান টুকু বলেন, হয়রানী হওয়া ব্যক্তিরা তাদের কাছে অভিযোগ দিলে তারা তদন্ত করে সংশ্লিষ্ট দপ্তরকে বিষয়টির অবগতি করবেন।
কালীগঞ্জ থানার অফিসার ইনচার্জ (ওসি) মিজানুর রহমান খান সাংবাদিকদের বলেন, জলিল হুজুর গ্রেফতার হওয়ার পর তার বিরুদ্ধে কেউ কোন মামলা দেয়নি। এছাড়া র‌্যাবের দায়ের করা মামলায় সে জামিনে রয়েছে। যার কারনে তাকে ৫৪ ধারায় পুলিশ আদালতে চালান দিয়েছে।
সচেতন মহলের প্রশ্ন সুনির্দিষ্ট কোন অভিযোগই যখন তার বিরুদ্ধে ছিল না, তাহলে ঢাক ঢোল পিটিয়ে জালিয়াতচক্রের এই হোতাকে পুলিশ কেন আটক করেছিল ? বিষয়টি খতিয়ে দেখতে পুলিশের উপরিমহলের হস্তক্ষেপ প্রয়োজন।

SHARE