বিভিন্ন উন্নয়ন প্রকল্প বাস্তবায়নে বদলে গেছে লোহাগড়ার গ্রামাঞ্চলের দৃশ্যপট

লোহাগড়া (নড়াইল) প্রতিনিধি ॥ বর্তমান সরকারের নেয়া নানামুখি উন্নয়ন প্রকল্প বাস্তবায়ন হওয়ায় বদলে গেছে নড়াইলের লোহাগড়া উপজেলার গ্রামাঞ্চলের দৃশ্যপট। বিভিন্ন উন্নয়ন প্রকল্প বাস্তবায়নে লোহাগড়া উপজেলা চেয়ারম্যান ও উপজেলা আওয়ামীলীগের সাধারণ সম্পাদক সৈয়দ ফয়জুল আমির লিটু তদারকি করেছেন। যেকারণে প্রত্যন্ত অঞ্চলে অসংখ্য পাঁকা রাস্তা, স্বাস্থ্য সম্মত স্যানিটেশন, শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের নতুন ভবনসহ বিভিন্ন স্থাপনা তৈরি হয়েছে। নদী ভাঙন এলাকায় বিনামূলে টিন বিতরণ, বাল্যবিয়ে রোধ, খেলাধূলার উপকরণ প্রদান, হারমোনিয়াসহ বিভিন্ন বাদ্যযন্ত্রও দেয়া হয়েছে।
সংশ্লিষ্ট সূত্রে ও সরেজমিনে গিয়ে জানা গেছে, এশিয়ান ডেবলপমেন্ট ব্যাংক(এডিবি) এর অধীনে অনগ্রসর উপজেলার জন্য বিশেষ থোক বরাদ্দ উপখাত থেকে ২০১৫-২০১৬ অর্থ বছরে লোহাগড়ার চাচই ওয়াপদা থেকে কালনা সড়ক পর্যন্ত সড়ক মেরামত করা হয়েছে। এ কাজে ব্যায় হয়েছে প্রায় ৭৮ লাখ টাকা। এলাকাবাসি জানান, আগে ভাঙ্গাচোরা সড়ক দিয়ে যাতায়াত করতে হতো। সড়কটি মেরামত করায় মানুষের ব্যাপক উপকার হয়েছে। চাচই সিডি থেকে কালনা সড়ক উন্নয়নে প্রায় ২৪ লাখ টাকা ব্যয় করা হয়েছে। চাচই এলাকার আরো একটি সিসি সড়কে ৩৪ লাখ ৫০ হাজার টাকা ব্যায় করা হয়েছে। ২০১৫- ২০১৬ অর্থ বছরে রাস্তাঘাটের উন্নয়নের পাশাপাশি বিভিন্ন ধরণের উন্নয়নমুলক প্রকল্প বাস্তবায়িত হয়েছে। এছাড়াও বিভিন্ন এলাকায় অগ্নিকান্ডে এবং নদী ভাঙনে ক্ষতিগ্রস্থদের মাঝে চার লাখ টাকার টিন প্রদান, বাল্যবিয়ে নিরোধে চার লাখ টাকা ব্যয়ে বিভিন্ন গ্রামে মহিলাদের শাড়ি, ইমাম ও কাজীদের পোশাক প্রদান এবং প্রশিক্ষণ দেয়া হয়েছে। বিভিন্ন শিক্ষা প্রতিষ্ঠান ও ক্লাবে দুই লাখ টাকার ক্রীড়া সামগ্রী প্রদান করা হয়েছে। এতে শিক্ষার্থী পড়ালেখার পাশাপাশি খেলাধূলার সুযোগ পাচ্ছে। এ ব্যাপারে লোহাগড়া পাইলট উচ্চ বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক (ভারপ্রাপ্ত) এসএম হায়াতুজ্জামান বলেন, উপজেলা চেয়ারম্যানের প্রচেষ্টায় আমাদের ছেলে-মেয়েরা ক্রীড়া সামগ্রী পেয়েছে। পড়ালেখার পাশাপাশি তারা নিয়মিত ফুটবল, ক্রিকেটসহ বিভিন্ন খেলাধূলা করছে। ক্রীড়া শিক্ষক দিলীপ কুমার বলেন, উপজেলা চেয়ারম্যান সৈয়দ ফয়জুল আমির লিটু শুধু পাইলট স্কুলেই নয়, উপজেলার বিভিন্ন স্কুল, কলেজ, মাদরাসায় ক্রীড়া সামগ্রী দিয়েছেন। বিভিন্ন মাধ্যমিক বিদ্যালয়ে দুই লাখ টাকার জার্সি দেয়া হয়েছে। বিভিন্ন শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের উন্নয়নে লোহাগড়া উপজেলা পরিষদ থেকে ২০১৫- ২০১৬ অর্থ বছরে দুই লাখ টাকার আসবাবপত্র দেয়া হয়েছে। কমিউনিটি ক্লিনিকে সেবা নিতে আসা রোগিদের কষ্ট লাঘবে লোহাগড়ার বিভিন্ন ক্লিনিকে দুই লাখ টাকার সিলিং ফ্যান দেয়া হয়েছে। এতে গরমের কষ্ট দুর হয়েছে। বিভিন্ন শিক্ষা প্রতিষ্ঠানে দুই লাখ টাকার হারমোনিয়ামসহ বাদ্যযন্ত্র দেয়ায় সুস্থ সংস্কৃতি চর্চা চলছে। লোহাগড়ার লাহুড়িয়ার কালিগঞ্জ বাজারে ও নলদী বাজারে চার লাখ টাকা ব্যয়ে দুটি ল্যাট্রিন নির্মাণ করা হয়েছে। লাহুড়িয়া বাজার বণিক সমিতির সাধারণ সম্পাদক হারুন অর রশিদ ও নলদী বাজার বণিক সমিতির সাধারণ সম্পাদক তোহিদ এবং ব্যবসায়ি আবু বক্কার জানান, লোহাগড়া উপজেলা পরিষদ, বণিক সমিতি ও বিত্তবানদের আর্থিক সহযোগিতায় পাবলিক টয়লেট নির্মিত হওয়ায় বাজারের ব্যবসায়ীরা ও আগতরা উপকৃত হচ্ছেন। প্রতিটি ল্যাট্রিনে ৫/৭ লাখ টাকা ব্যয় হয়েছে। লোহাগড়া উপজেলার সব ইউনিয়নের ভূমি অফিসের পুরাতন রেকর্ড ও ফাইল বাঁধাই করা হয়েছে। এ কাজে দুই লাখ টাকা ব্যয় হয়েছে। যৌতুক, নারী ও শিশু নির্যাতন, ইভটিজিং, মাদক ও এডিস নিক্ষেপ বিষয়ে সচেতনতামূলক কর্মশালার মাধ্যমে এর কুফল সম্পর্কে জনসাধারণ সজাগ হয়েছেন। এ কাজে দুই লাখ টাকা ব্যয় করা হয়েছে। প্রতিবন্ধীদের মাঝে দুই লাখ টাকার হুইল চেয়ার ও স্ক্রাচ প্রদান করায় প্রতিবন্ধীদের কাজকর্ম গতিশীল হয়েছে। বিভিন্ন হাটবাজারে দুই লাখ টাকার টিউবওয়েল স্থাপনে সুপেয় পানির কষ্ট দুর হয়েছে। এক টাকা ব্যয়ে বিভিন্ন শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের শিক্ষার্থীদের রক্তের গ্রুপ নির্ণয় ও কার্ড প্রদান করায় শিক্ষার্থীরা তাদের রক্তের গ্রুপ সম্পর্কে ধারণা পেয়েছে। লোহাগড়ার ইতনায় উপন্যাসিক নীহাররঞ্জন গুপ্তের বাড়ি যাওয়ার রাস্তাটি দুই লাখ টাকা ব্যয়ে প্রশ্বস্তকরণ করা হয়েছে। ফলে দর্শনার্থীরা সহজে নীহাররঞ্জন গুপ্তের বাড়ি যেতে পারছেন। হতদরিদ্র মহিলাদের মাঝে প্রায় এক লাখ টাকার শাড়ি দেয়া হয়েছে। শাড়ি পেয়ে খুশি এলাকার দরিদ্র মহিলারা। দুই লাখ টাকা ব্যায়ে মাধবহাটি ও দেবী গ্রামে ইটের সোলিং রাস্তা নির্মাণ করায় নিকুরী বাজারসহ স্থানীয়দের যাতায়াতে সুবিধা হয়েছে। দুই লাখ টাকা ব্যায়ে আমাদা দাখিল মাদ্রাসার শ্রেণিকক্ষ নির্মাণে পাঠদানে সুবিধা হয়েছে বলে জানিয়েছেন মাদ্রাসার শিক্ষক ও শিক্ষার্থীরা। এছাড়া সরকারের বহুমুখী উন্নয়ন কাজের প্রচার-প্রচারণায়ও লোহাগড়া উপজেলা পরিষদের চেয়ারম্যান সৈয়দ ফয়জুল আমির লিটু কাজ করে যাচ্ছেন বলে এলাকার মানুষ জানান। এ ব্যাপারে লোহাগড়া উপজেলার চেয়ারম্যান সৈয়দ ফয়জুল আমির লিটু বলেন, বর্তমান সরকারের উন্নয়নের ধারাবাহিকতায় এডিবির সহযোগিতায় লোহাগড়া উপজেলায় বিভিন্ন উন্নয়ন কাজ করে যাচ্ছি। বর্তমান সরকার উন্নয়নে বিশ্বাসী। সকলের সহযোগিতা পেলে উন্নয়ন অব্যাহত থাকবে।

SHARE