মাগুরা প্রতিনিধি॥ শালিখায় ২শ বছরের পুরাতন খালের মুখ বন্ধ করে মাছ চাষ করায় ২০০টি পরিবার ও একটি মাধ্যমিক বালিকা বিদ্যালয় পানিবন্দি হয়ে পড়েছে। ঘটনাস্থল পরিদর্শন করে দেখা যায় উপজেলার তালখড়ি ইউনিয়নের সেওজগাতী গ্রামের দক্ষিণ পাশ ঘেষে জিয়ালআলী নামে একটি বিল রয়েছে। বিলের পানি নিষ্কাশনের জন্য প্রায় ২শ বছর আগে সেওজগাতী ও ভাটোয়াইল গ্রামের মৌজার শেষ সীমানা দিয়ে একটি খাল খনন করা হয়। কিন্তু গত বছর হঠাৎ করে খালের মুখে সেওজগাতী গ্রামের স্বপন বিশ্বাস তার জমিতে একটি ঘের খনন করেন। ঘের খননের সময় খালের মুখ বন্ধ করে দেয়। যার ফলে পানি নিষ্কাশনের সকল ব্যবস্থা বন্ধ হয়ে যায়। এরফলে বিগত কয়েক দিনের ভারী বর্ষনে শালিখা উপজেলার অধিকাংশ নি¤œ এলাকা প্লাবিত হয়েছে। বর্ষনে বিলের পানি বের হতে না পারায় সেওজগাতী গ্রামের ২শ টি পরিবারের চলাচলের ভাটোয়াইল-সেওজগাতী রাস্তা ও কয়েকশ বিঘা জমির সদ্য রোপা ফসল পানির নিচে তলিয়ে গেছে। একই সাথে ঐ গ্রামে অবস্থিত সেওগজাতী আদর্শ মাধ্যমিক বালিকা বিদ্যালয়টির আঙ্গিনায় পানি জমে গেছে। খালের মুখ দ্রুত খোলার ব্যবস্থা না করলে ২শ টি পরিবার ও বিদ্যালয়টি যে কোন সময় পানির নিচে চলে যেতে পারে। এ দিকে বারেঙ্গা খাল যা সিংড়ার জামলার বিল থেকে ফটকি নদীতে এসে পতিত হয়েছে। ১৯৮৭-১৯৮৮ সালে খালটি খনন করা হয়। খননের পূর্বে ভূমি রেকর্ড হওয়ায় খালটির নমুনা ম্যাপে উঠেনি। সে অজুহাতে অধিকাংশ জমির মালিক খালটি ভরাট করে চাষাবাদ শুরু করেছে। এ ছাড়া কতিপয় ভূমিদস্যু খাল দখল করে বেড়ি বাঁধ নির্মান করায় শতশত বিঘা জমির ফসল ঝুঁকির মধ্যে পড়েছে। এ বিষয়ে একাধিকবার বিভিন্ন পত্রপত্রিকায় সংবাদ প্রকাশিত হলেও পানি উন্নয়ন বোর্ড দীর্ঘ ২ বছরেও কোন ভূমিকা গ্রহন করেনি। ফলে পানি উন্নয়ণ বোর্ডের এই নীরবতায় যে কোন সময় কৃত্রিম বন্যা সৃষ্টি হওয়ার প্রবল সম্ভাবনা রয়েছে। এ ব্যাপারে উজগ্রাম নিবাসী উসমান আলী বলেন- আমরা ছোট বেলা থেকেই জিয়ালআলীর খাল দেখে আসছি। শুনেছি কতিপয় ব্যক্তি বর্তমান খালটি ভরাট করে ফেলেছে। বিদ্যালয়ের পাশে বসবাসকারী এক কৃষক বলেন- এর আগে আমরা কখনও এ ভাবে পানি জমতে দেখিনি। খালের মুখ বন্ধ হওয়ায় এ সমস্যার সৃষ্টি হয়েছে। সাতনাফুরিয়া গ্রামের কৃষক মইনুল হোসেন বলেন – চতের বিল, বারেঙ্গার বিল, লতার বিল সহ অধিকাংশ বিলে প্রচুর পানি জমায় পাট কাটা নিয়ে বিপাকে পড়েছে এলাকার কৃষকরা।

SHARE