লোহাগড়ায় পুলিশের কোর্ট ইন্সপেক্টর উজিরের মারপিটে স্ত্রী হাসপাতালে !

লোহাগড়া (নড়াইল) প্রতিনিধি ॥ নড়াইলের লোহাগড়ায় স্ত্রীকে বেদম মারপিট করেছেন সৈয়দ আল মামুন উজির নামে এক পুলিশ ইন্সপেক্টর। মারাত্বক জখমী অবস্থায় ফাতেমা আকতার শিখাকে (২৩) লোহাগড়া হাসপাতালে ভর্তি করেছেন প্রতিবেশিরা। দাম্পত্য জীবনের শুরু থেকেই নির্যাতন চলে আসছে দাবি করে নির্যাতিতা বধু শিখা জানান ভয়ে এতদিন তিনি প্রকাশ করেননি। তাকে হুমকি দেয়া হয়েছে ছেলের বয়স ৩ বছর হলে তাকে বোর্ডিয়ে রেখে নির্যাতনের মাত্রা বাড়িয়ে দেয়া হবে ! পাষন্ড স্বাশী পুলিশে চাকুরি করায় বিচার পাওয়া নিয়ে সংশয় প্রকাশ করেছেন নির্যাতিতা হাসপাতাল বেডে চিকিৎসাধীন শিখা।
ফাতেমা আকতার শিখা জানান, ২০১৩ সালের ৮এপ্রিল কুন্দসী গ্রামের সৈয়দ আল মামুন উজিরের সাথে তার বিয়ে হয়। তাদের সংসারে আরাফাত নামে আড়াই বছরের শিশু সন্তান রয়েছে। তিনি অভিযোগ করেন বিয়ের পর থেকেই বিনা কারনে স্বামী তাকে মারপিট করে আসছে। ভয়ে কোনদিন প্রতিবাদ করতে পারেননি। সর্বশেষ গত ২০ জুলাই রাত ১ টা থেকে ২২ জুলাই সকাল ১২টা পর্যন্ত কারণ ছাড়াই ফাতেমাকে কয়েক দফায় লোহার রড ও লাঠি দিয়ে পাষন্ড স্বামী সৈয়দ আল মামুন বেদম মারপিট করে। পরে স্থানীয় লোকজন তাকে উদ্ধার করে লোহাগড়া হাসপাতালে এনে ভর্তি করে। ফাতেমা আরো জানান, সৈয়দ আল মামুন তাকে হুমকি দিয়েছেন যে ছেলের বয়স তিন বছর হলে তাকে বোডিংয়ে রেখে তোকে নির্যাতনের ওপর রাখা হবে। মারপিটের সঠিক কারণ উল্লেখ করে না সৈয়দ আল মামুন। শ্বশুর-শাশুড়ীকে নিয়ে গালিগালাজ করে। মেয়ের নির্যাতনের কথা স্বীকার করেছেন ফাতেমার মা ফুরজাহান বেগম। তিনি জানান, আমার মেয়ের গলা পাড়ায় ধরে হত্যার চেষ্টা চালানো হয়েছে। কুন্দসী গ্রামের আব্দুল মান্নানের মেয়ে ফাতেমা। ফাতেমা সন্দিহান নির্যাতনের বিচার পাবেন কিনা। তিনি বলেন, মামুন পুলিশের লোক। আমি বিচার চাইলেও বিচার হয়তো পাবো না। সৈয়দ আল মামুন (উজির) আলী এ বিষয়ে বক্তব্য দিতে রাজি না হলেও তিনি বলেন, আমি সিএমএম কোর্ট কেএমপি (খুলনা)তে কোর্ট ইন্সেপেক্টর পদে কর্মরত রয়েছি। ফাতেমা নির্যাতনের বিচার চাক। তার এই দম্ভোক্তিমুলক বক্তব্যে স্পষ্ট হয় পুলিশের এই কর্মকর্তা কোর্ট ইন্সপেক্টরে কর্মরত থাকার কারণে নিজেকে আইনের উর্দ্ধের ভাবেন। যেকারণে তিনি বউ পেটান। পেটানোর পর স্ত্রী যখন হাসপাতালে মরণাপন্ন তখন তিনি অনুশোচনা প্রকাশ করা তো দুরের কথা, তিনি দাম্ভিকের সাথে বলছেন আমি কোর্ট ইন্সপেক্টরে কর্মরত আছি, আসুক কোর্টে বিচার চাক ! তারমানে নির্যাতিতা স্ত্রী ও তার মায়ের অভিযোগ সঠিক বলেই ধারণা করা যায়।
এ বিষয়ে লোহাগড়া থানার ওসি জাহাঙ্গীর আলম বলেন, আমি হাসপাতালে ফাতেমাকে দেখতে গিয়েছিলাম। এখনো কোন অভিযোগ পাইনি।

SHARE