বৃদ্ধ অনীল দাসকে বয়স্ক ভাতার কার্ড দিয়ে কথা রাখলেন ইউপি চেয়ারম্যান

নয়ন খন্দকার, কালীগঞ্জ ॥ অবশেষে বয়স্ক ভাতার কার্ড পেলেন অনিল দাস। এক সময় মানুষের বাড়ি বাড়ি গিয়ে বড় বড় গাছের ডাল ও গাছের গুড়ি চেরাই করে জীবিকা নির্বাহ করতেন অনিল দাস। এখন তার বয়স এখন ৯০ বছর। বয়সের ভারে ন্যুজ অনিল ঠিকমত চলাফেরাও করতে পারেন না। বিয়ের পর দুই মেয়ে চলে যায় ভারতে। এখন দেখার মত কেউ নেই তার। স্ত্রীকে নিয়ে ঝিনাইদহের কালীগঞ্জ উপজেলার ১নং সুন্দরপুর-দূর্গাপুর ইউনিয়নের ৮নং ওয়ার্ডের ছোটভাটপাড়া গ্রামের ছোট্ট একটি কুড়ে ঘরে বসবাস করেন তিনি।
চলতি পথে গত ১৯ জানুযারি বয়স্ক এই ব্যক্তি বললেন, ‘আমার একটা বয়স্ক কার্ড করে দাও না বাবা, আর কত বয়স হলে বয়স্ক ভাতা পাবো ? সবাই শুধু কথা দেয় কিন্তু কেউ কথা রাখে না।’ কিন্তু এবার সেই কথা রেখেছেন ইউপি চেয়ারম্যান।
এ সংক্রান্ত গত ১৯ জানুয়ারি বাংলা ট্রিবিউনসহ বিভিন্ন পত্র পত্রিকায় “কবে বয়স্ক ভাতার কার্ড পাবেন ৯০ বছরের অনিল” শিরোনামে একটি খবর প্রকাশিত হয়। খবরটি প্রকাশিত হবার পর সুন্দরপুর-দুর্গাপুর ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান ইলিয়াস রহমান মিঠু ওই বয়স্ক ব্যক্তি অনিল কুমার দাসকে একটি বয়স্ক ভাতার কার্ড করে দেবার প্রতিশ্রুতি দেন। চেয়ারম্যান তার সেই কথা রেখেছেন। সোমবার সকালে অনিল কুমার দাসকে উপজেলা পরিষদে ডেকে এনে তার হাতে একটি বয়স্ক ভাতার কার্ড তুলে দেন। এ সময় উপস্থিত ছিলেন, ঝিনাইদহ-৪ আসনের জাতীয় সংসদ সদস্য ও কালীগঞ্জ উপজেলা আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক আনোয়ারুল আজীম আনার, উপজেলা নির্বাহী অফিসার ছাদেকু রহমান, সহকারি কমিশনার (ভুমি) যাদব সরকার, ইউপি চেয়ারম্যান ইলিয়াস রহমান মিঠু, উপজেলা সমাজ সেবা কর্মকর্তা আইনাল হক, ওই ইউনিয়নের ৮নং ওয়ার্ডের মেম্বর আব্দুল কাদের প্রমুখ।
ইউপি চেয়ারম্যান ইলিয়াস রহমান মিঠু জানান, রিপোর্টটি প্রকাশ হওয়ার পর আমার দৃষ্টি গোচর হয়। সে সময় আামি ইউএনও স্যারের সাথে পরামর্শ করে সাংবাদিকদের জানিয়েছিলাম অনিল কুমার দাসকে একটি বয়স্ক ভাতার কার্ড করে দিব। তিনি আরো জানান, দুই বছর পরপর প্রতিটি ইউনিয়নে ১৬ থেকে ১৮টি বয়স্ক ভাতার কার্ড আসে। কিন্তু বয়স্ক ভাতার লোক থাকে অনেক বেশি। এই বিশাল চাহিদার ভেতর দিয়ে সীমিত সাধ্য দিয়ে সবকিছু পূরণ করা সম্ভব হয় না। অনেক সময় কথা দিয়ে কথা রাখা সম্ভব হয় না। তবে অনিলের বিষয়ে আমি আমার কথা রেখেছি। তাকে একটি বয়স্ক ভাতার কার্ড করে দিতে পেরে নিজের মধ্যে অনেক আনন্দ অনুভুত হচ্ছে।
উপজেলা নির্বাহী অফিসার ছাদেকুর রহমান জানান, বাংলা ট্রিবিউনসহ বিভিন্ন অনলাইন নিউজ পোর্টাল, প্রিন্ট মিডিয়া ও সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যম ফেসবুকে আমি রিপোর্ট পড়ার পর সংশ্লিষ্ট ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যানের সাথে কথা বলেছিলাম। পরবর্তীতে বয়স্ক ভাতার কার্ড বরাদ্দ হলে তাকে যেন একটি কার্ড দেয়া হয়। তিনি সাংবাদিকদের প্রশংসা করে বলেন, আপনাদের সৃজনশীল সাংবাদিকতার জন্য একজন দুঃস্থ ও বয়স্ক ব্যক্তি কার্ড পেলেন। এজন্য নিজের কাছে খুব ভাল লাগছে।

SHARE