নড়াইলে কৃষকের ৩ একর জমি নিয়ে কর্মকর্তাদের তালবাহানা

লোহাগড়া (নড়াইল) প্রতিনিধি॥ নড়াইলে সরকারি অফিসের কর্মকর্তারা মুস্তাকিন মোল্যা নামে এক কৃষকের ৩ একর ৭ শতক জমি নিয়ে তালবাহানা শুরু করেছেন। জালজালিয়াতির আশ্রয় নিয়ে ওই কর্মকর্তারা প্রতিনিয়ত হয়রানি করছেন কৃষককে। সরকারি কর্মকর্তারা জমির ভুয়া কাগজপত্র তৈরি করেছে এমনকি মৌজার জরিপ খতিয়ান, জমির দাগ নাম্বার ম্যাপ ও জালজালিয়াতি করেছে বলে অভিযোগ উঠেছে।
অভিযোগে জানা গেছে, নড়াইলের হবখালি ইউনিয়নের সাধুখালি গ্রামের মৃত আদিল উদ্দিনের ছেলে মুস্তাকিন মোল্যা(৬৬) ১৯৬২ সালের ৩ ফেব্রুয়ারি স্থানীয় শৈলবালা চন্দ্রর কাছ থেকে দলিলমূলে ৩৮ নং সাধুখালি মৌজার ৪১১৯, ৩৫০১, ৩৫৪৩, ৩৬৮৩, ৩৬৪৬ নং হাল দাগের ৩ একর ৮ শতক জমি ক্রয় করেন। জমি কেনার পর থেকে ৯২ শতক জমি বাদে এখনো পর্যন্ত বাকি জমি ওই কৃষক ভোগদখল করছেন। এরপর ২০০৮ সালে হাল ৩৬৮৩ নং দাগের ২৩ শতক জমি কে ২৮ শতক বানিয়ে সংশ্লিষ্ট ভুমি অফিস জনৈক শাহাজান জমাদ্দার ও রুবিয়া খাতুনের নামে ইজারা দেয়। ভুমি অফিস ২০১৩ সালে ৩৬৪৬ নং দাগের ২৩ শতক জমি বাদে বাকি জমি খ-তফশিলে অন্তর্ভুক্ত করে। ওই বছরই মুস্তাকিন মোল্যা জমি অবমুক্তকরণের জন্য নড়াইল সদর ট্রাইব্যুনাল আদালতে মামলা দায়ের করেন। ২০১৪ সালে তিনি সদর ভুমি অফিসে নামজারি কেস করেন। পরে সন্তোষ জনক ফল না পাওয়ায় ওই কৃষক এডিসি(রাজস্ব) অফিসে আপিল আবেদন করেন। এডিসি(রাজস্ব) অফিস ভ্রান্তি সংশোধনের জন্য সংশ্লিষ্ট মন্ত্রণালয়ে নথি পাঠালে ২০১৬ সালের ৩১ মে তা সংশোধন হয়ে আসে। জমির রায় পান ওই কৃষক। ওই রায়ে বলা হয়েছে নামজারী মামলার ২০/৫/১৪ তারিখের আদেশ বহাল রাখা হলো। অথচ অফিস থেকে মুস্তাকিন মোল্যাকে বলা হয়েছে জমির রায় আপনি পাননি। ৩১/৫/১৬ তারিখের (১৭০৮)খতিয়ানে ওয়ার্কিং ভলিউমে মুস্তাকিন মোল্যার নামে ৩ একর ৭ শতক জমি রয়েছে। ১শতক জমি সরকারি খালে চলে গেছে। ওই মৌজার সাবেক ১৫৩৩ এর হাল দাগ ৩৫৪৩ কিন্তু তৎকালীন হবখালি ইউনিয়নের ভুমি কর্মকর্তা সনজিত কুমার রায় এবং নাজির ইনামুল জালজালিয়াতির মাধ্যমে সাবেক ১৫৩৩ এর হাল দাগ ৩৬৬০ বানিয়েছেন। প্রকৃতপক্ষে হালে ৩৬৬০ নং দাগের সাবেক দাগ ১৬১৫।
এদিকে জালজালিয়াতির ঘটনার নায়ক হবখালি ভুমি অফিসের কর্মকর্তা সনজিত কুমার রায় এখন লোহাগড়ার দিঘলিয়া ইউনিয়ন পরিষদের ইউনিয়ন সহকারি ভুমি কর্মকর্তা হিসাবে কর্মরত আছেন। তিনি বলেন, অভিযোগ সত্য নয়। অপরদিকে ভুক্তভোগী কৃষক জানান, তিনি বিভাগীয় কমিশনারের কাছে ন্যায্য পাওনা এবং জালজালিয়াতির বিচার চেয়ে আবেদন করবেন।

SHARE