শালিখা (মাগুরা) প্রতিনিধি ॥ মাগুরার শালিখা উপজেলার ভুলবাড়ীয়া মাধ্যমিক বিদ্যালয়ে সহকারি প্রধান শিক্ষক নিয়োগ পরীক্ষা কাল। এরমধ্যে এই নিয়োগ নিয়ে অর্থ-বাণিজ্যের অভিযোগ উঠেছে। চাউর হয়েছে মার্ডার মামলার আসামি ও ওয়ার্ড বিএনপি’র সভাপতি আব্দুল জলিল নামে একজনকে নিয়োগ দেয়া হচ্ছে। এ খবরে এলাকায় উত্তেজনা দেখা দিয়েছে। জানতে চাইলে স্কুলের প্রধান শিক্ষক তপন বিশ্বাস বলেন অর্থ লেনদেনের বিষয় তার জানা নেই।
জানা গেছে, স্কুলের বিজ্ঞান শাখার শিক্ষক শ্রীপতির মৃত্যুর পর ওইপদটি শুন্য হয়। বিদ্যালয় কর্তপক্ষ শিক্ষত নিয়োগের যাবতীয় প্রক্রিয়া শেষ করেছে। রাত পোহালে (১৪ জুলাই) সকাল ১০টায় মাগুরা সরকারি মাধ্যমিক বালিকা বিদ্যালয়ে নিযোগ পরীক্ষা অনুষ্ঠিত হবে। এরই মধ্যে প্রচার হয়েছে মার্ডার কেসে জেল খাটা আসামি সাতনাফুরী ওয়ার্ড বিএনপির সভাপতি এবং তালখড়ি ইউনিয়ন বিএনপির সহসভাপতি আব্দুল জলিল মাষ্টারকে সহকারি প্রধান শিক্ষক পদে নিয়োগ দেয়া হচ্ছে। তিনি মোটা অংকের টাকা দেনদরবার করে এই পদে নিয়োগ পেতে চলেছেন। অর্থ লেনদেনের মাধ্যমে একজন অদক্ষ ব্যক্তিকে নিয়োগ হচ্ছে খবরে স্থানীয়দের মধ্যে চাপা ক্ষোভ ও উত্তেজনার সৃষ্টি হয়েছে। স্থানীয়দের মধ্যে মোহাহাম্ম আলী, সাইফুল মোল্যা, বাবলু বিশ্বাস, সাদিক মুন্সী, আকলেজ বিশ্বাস, মোজাফফর বিশ্বাস, জুলকাত বিশ্বাস, আবু ছায়াব, হবিবুর বিশ্বাস ও ম্যানেজিং কমিটির সদস্যা রেবেকা বেগমের পুত্রসহ প্রায় অর্ধ শতাধিক অভিভাবক অভিযোগে জানিয়েছেন প্রয়াত শ্রীপ্রতি বিজ্ঞান শাখায় ভাল শিক্ষক ছিলেন কিন্তু এখন যাকে নিয়োগের দেয়া হচ্ছে বলে জানা গেছে তিনি অদক্ষ, হত্যা মামলার আসামি ও বিএনপি’র নেতা। মোটা অংকের টাকা নিয়ে তাকে নিয়োগ দেয়া হচ্ছে বলে বিভিন্ন সুত্রে প্রচার হয়েছে। এনিয়ে এলাকার মানুষের মধ্যে ক্ষোভের সৃষ্টি হয়েছে। পরিস্থিতি সহিংসতার দিকে গড়াতে পারে। তারা বলেন আমরা চাই বিদ্যালয়টিতে সুশিক্ষিত জ্ঞ্যানি ব্যক্তিকে নিয়োগ দেয়া হোক, কোন মাদ্রাসা শিক্ষকে টেনে আনার দরকার নেই। যাতে করে আমাদের ছেলে-মেয়ে সুশিক্ষায় শিক্ষিত হতে পারে। এ ব্যাপারে আব্দুল জলিল মাষ্টারের সাথে কথা বললে তিনি বলেন, আমি সহকারি প্রধান শিক্ষক পদে আবেদন করেছি। এখনও চাকুরি হয়নি। শুক্রবার নিয়োগ পরীক্ষা দিতে মাগুরা সরকারি মাধ্যমিক বালিকা বিদ্যালয়ে যাবো। তিনি আরো বলেন, আমি জেলখাটা আসামি, বিএনপি করি তাও ঠিক আছে। তাই বলে কি আমি আমার যোগ্যতা অনুযায়ী চাকুরী করতে পারবো না ? তিনি বলেন আমি সহকারি শিক্ষক পদে পিপরুল মাদরাসায় কর্মরত রয়েছি। ঘুষ দিয়ে চাকুরি করবো না। এ ব্যাপারে ওই বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক তপন বিশ্বাসের সাথে যোগাযোগ করা হলে তিনি বলেন, সহকারি প্রধান শিক্ষক পদে ১১ জন প্রার্থী আবেদন করেন। এরমধ্যে ৭ জন প্রার্থী যাচাই বাছাইতে টিকেছেন। পরীক্ষার্থীদের নিয়োগ পরীক্ষা ১৪ জুলাই মাগুরা সরকারি মাধ্যমিক বালিকা বিদ্যালয়ে অনুষ্ঠিত হবে। পরীক্ষার্থীদের কাছ থেকে কোন অর্থ বাণিজ্য করা হয়েছে কিনা জানতে চাইলে তিনি বলেন, এ বিষয়ে আমি কিছু জানি না।

 

SHARE