সেমিনারে তথ্য : যশোরে ১০ হাজার ট্রাক মাটি যাচ্ছে ইটভাটায় ২০২০ সালে ইটভাটায় নিষিদ্ধ হবে জমির ‘টপ সয়েল’

Jessore Brick fieldনিজস্ব প্রতিবেদক॥ যশোরে প্রতি মৌসুমে প্রায় ১০ হাজার ট্রাক মাটি (জমির টপ সয়েল) যাচ্ছে ইটভাটার পেটে। এই মাটি দিয়ে তৈরি ইট পোড়াতে এই জেলায় প্রায় ১ হাজার টন কয়লা ব্যবহার হয়। পাশাপাশি পুড়ছে জ্বালানি কাঠও। কিন্তু ২০২০ সালে সরকার এই টপ সয়েল ইটভাটায় নিষিদ্ধ করবে। তাই এখন থেকেই পোড়া ইট বাদ দিয়ে পরিবেশবান্ধব নির্মাণ সামগ্রী উৎপাদন ও ব্যবহার করে ভবন ও স্থাপনা নির্মাণের আহ্বান জানানো হয়েছে। বৃহস্পতিবার যশোরের জাগরণী চক্র ফাউন্ডেশন মিলনায়তনে আয়োজিত এক প্রকল্প পরিচিতি কর্মশালায় এ আহ্বান জানানো হয়।
কর্মশালায় প্রধান অতিথি হাউজিং এন্ড বিল্ডিং রিসার্চ ইনস্টিটিউট (এইচবিআরআই) এর পরিচালক মো. আবু সাদেক বলেন, ইতোমধ্যে প্রতিবেশী ভারত ও চীনসহ বিভিন্ন দেশ ইটভাটায় জমির টপ সয়েল ব্যবহার নিষিদ্ধ করেছে। ২০২০ সালে আমাদের দেশেও ইটভাটায় জমির টপ সয়েল ব্যবহার নিষিদ্ধ করা হবে।
তিনি উল্লেখ করেন, এখনকার ইটভাটাগুলোর অধিকাংশই পরিবেশবান্ধব নয়। আর এই ইটও পরিবেশবান্ধব নয়। তাই পৃথিবীর কোনো উন্নত দেশেই পোড়া মাটির ইট ব্যবহার করে স্থাপনা নির্মাণ করা হয় না। আমাদেরকেও এ ধারা থেকে বেরিয়ে আসতে হবে। ননফায়ার ব্রিকস, ফেরোসিমেন্টসহ বিভিন্ন পরিবেশবান্ধব উপকরণ ব্যবহার করে ভবন নির্মাণ করতে হবে। তিনি উল্লেখ করেন, এই পদ্ধতিতে ভবন নির্মাণে কারিগরি সহায়তা দেবে হাউজিং এন্ড বিল্ডিং রিসার্চ ইনস্টিটিউট (এইচবিআরআই)। আর এই ভবনগুলো টেকসই, দীর্ঘস্থায়ী এবং রক্ষণাবেক্ষণ খরচ নেই বললেই চলে। উপরন্তু এতে ভবন নির্মাণের ব্যয় ৩০ভাগ কমে আসবে।
কর্মশালায় আয়োজকরা জানান, যশোর জেলায় মোট ১৬৮টি ইটভাটা রয়েছে। এই ভাটা থেকে প্রতি মৌসুমে ৫০ থেকে ৬০ লাখ ইট তৈরি হয়। এই ইট বানাতে মৌসুমে প্রায় ১০ হাজার ট্রাক মাটি (জমির টপ সয়েল) ব্যবহার করা হয়। এই ইট পোড়াতে প্রায় ১ হাজার টন কয়লা ব্যবহার করা হয়। পাশাপাশি জ্বালানি কাঠও পোড়ে ইটভাটায়।
কর্মশালায় আয়োজকরা আরও জানান, টপ সয়েল ইট ভাটায় চলে যাওয়ায় জমির উর্বরতা হারাচ্ছে। কাঠ ও কয়লা পুড়িয়ে প্রচুর পরিমাণে গ্রিনহাউজ গ্যাস উৎপাদন করা হচ্ছে এবং ভাটা নানাভাবে পরিবেশের ক্ষতি করছে।
পরিবেশবান্ধব নির্মাণ সামগ্রী তৈরি ও এর ব্যবহার সংক্রান্ত সচেতনতা বৃদ্ধির লক্ষ্যে ‘প্রমোটিং সাসটেইনেবল বিল্ডিং ইন বাংলাদেশ’ শীর্ষক প্রকল্পের আওতায় এ কর্মশালা অনুষ্ঠিত হয়। ইউরোপিয়ান ইউনিয়ন ও অক্সফাম’র অর্থায়নে এবং হাউজিং এন্ড বিল্ডিং রিসার্চ ইনস্টিটিউট (এইচবিআরআই) এর কারিগরি সহায়তায় জাগরণী চক্র ফাউন্ডেশন যশোরের সদর ও মণিরামপুর উপজেলা এবং ঢাকার সাভারে এ প্রকল্প বাস্তবায়ন করছে। যশোরের জেলা প্রশাসক ড. হুমায়ুন কবীরের সভাপতিত্বে অনুষ্ঠানে বিশেষ অতিথির বক্তব্য দেন, যশোর জেলা পরিষদের প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তা আহমেদ কবীর, অক্সফাম প্রতিনিধি সায়মন রহমান ও বেলা প্রতিনিধি তাসমিয়া কবীর। অনুষ্ঠানে স্বাগত বক্তব্য দেন জাগরণী চক্র ফাউন্ডেশনের নির্বাহী পরিচালক আজাদুল কবির আরজু এবং মূল প্রবন্ধ উপস্থাপন করেন পরিচালক (কর্মসূচি) হাসান আরেফ। কর্মশালায় প্রকৌশলী, ইটভাটা মালিক, নির্মাণ শ্রমিকসহ বিভিন্ন সেক্টরের প্রতিনিধিবৃন্দ উপস্থিত ছিলেন।

SHARE