লোহাগড়ায় আন্তঃস্কুল ফুটবল খেলা খেলোয়াড়কে মারপিটের ঘটনায় হলুদ কার্ড ॥ রেফারিও প্রহৃত

লোহাগড়া (নড়াইল) প্রতিনিধি ॥ আন্ত: স্কুল ফুটবল খেলায় নড়াইলের লোহাগড়ার কাশিপুর এসি মাধ্যমিক বিদ্যালয়ের এক খেলোয়াড়কে মারপিটের ঘটনায় হলুদ কার্ড দেখিয়ে প্রহৃত হয়েছেন রেফারি। কাশিপুর এলাকার উচ্ছৃঙ্খল একদল যুবক ফেরারিকে বেধড়ক পিটিয়ে আহত করেছে। শনিবার বিকাল ৫টার দিকে উপজেলার মোল্যার মাঠ স্টেডিয়ামে কাশিপুর এসি মাধ্যমিক বিদ্যালয় ও নলদী বিএসএস মাধ্যমিক বিদ্যালয়ের ফুটবল দলের মধ্যে অনুষ্ঠিত খেলায় এই ঘটনা ঘটে।
জানা গেছে, গত বৃহস্পতিবার থেকে লোহাগড়া উপজেলায় মাধ্যমিক শিক্ষা অফিসের উদ্যোগে আন্ত: স্কুল ফুটবল খেলা শুরু হয়েছে। শনিবার বিকাল ৪টায় কাশিপুর এসি মাধ্যমিক বিদ্যালয় ও নলদী বিএসএস মাধ্যমিক বিদ্যালয়ের মধ্যে খেলা শুরু হয়। খেলার শেষ মুহুর্তে কাশিপুর এসি মাধ্যমিক বিদ্যালয়ের ৭ নম্বর জার্সিধারী খেলোয়াড় প্রতিপক্ষ নলদী বিএসএস মাধ্যমিক বিদ্যালয়ের খেলোয়াড় মেহেদী হাসানকে আঘাত করে। এ সময় রেফারি মাহাবুব-উর-রহমান কাশিপুর এসি মাধ্যমিক বিদ্যালয়ের ৭ নম্বর জার্সিধারী খেলোয়াড়কে হলুদ কার্ড প্রদর্শন করলে মাঠের বাইরে বসে থাকা কাশিপুর ইউপির ৭ নম্বর ওয়ার্ডের সাবেক মেম্বর ও ধোপাদহ গ্রামের হাবিবুর রহমানের ছেলে শহিদুল্লাহর নেতৃত্বে ৫০/৬০ জন  উচ্ছৃঙ্খল যুবক মাঠের মধ্যে প্রবেশ করে রেফারি মাহাবুব উর রহমান (৪১) ও নলদী বিএসএস মাধ্যমিক বিদ্যালয়ের খেলোয়াড় মেহেদী হাসান (১৬)কে এলোপাতাড়ি পিটিয়ে গুরুতর আহত করে। আহত আবস্থায় তাদেরকে লোহাগড়া হাসপাতালে ভর্তি করা হয়েছে। খবর পেয়ে উপজেলা নির্বাহী অফিসার সেলিম রেজা ও লোহাগড়া থানার অফিসার ইনচার্জ বিপ্লব কুমার সাহা হাসপাতালে আহতদের দেখতে যান। এ সময় উপজেলা নির্বাহী অফিসার সেলিম রেজা উপস্থিত সাংবাদিকদের বলেন, যারা এ ঘটনার সাথে জড়িত, তাদের বিরুদ্ধে আইনগত ব্যবস্থা নেয়া হবে। এরআগে গত বৃহস্পতিবার কাশিপুর এসি মাধ্যমিক বিদ্যালয় ও লোহাগড়া পাইলট উচ্চ বিদ্যালয় ফুটবল দলের মধ্যকার খেলায় দু’দলের খেলোয়াড়দের দু’জন গোলমাল করায় রেফারি মাহাবুব উর রহমান তাদেরকে লাল কার্ড দিয়ে মাঠ থেকে বের করে দেওয়ায় কাশিপুর ইউপির ৭ নম্বর ওয়ার্ডের সাবেক মেম্বর শহিদুল্লাহ’র নেতৃত্বে ৪০/৫০ জন  উচ্ছৃঙ্খল যুবক মাঠের মধ্যে প্রবেশ করে রেফারি ও লোহাগড়া পাইলট উচ্চ বিদ্যালয়ের এক খেলোয়াড়কে মারপিট করে। এ ঘটনায় ওই দিন সন্ধ্যায় উপজেলা নির্বাহী অফিসারের কার্যালয়ে বসে মিমাংশা করা হয়। তার ঠিক একদিন পর হামলার ঘটনা ঘটেছে। তবে কয়েকটি সূত্র জানায়, গোলমাল করা জন্য প্রস্তুতি নিয়েই কাশিপুরের লোকজন খেলার মাঠে এসেছিল।

SHARE