আল বিদা মাহে রমজান

সমাজের কথা ডেস্ক॥ আজ মাহে রমজানুল মোবারকের ২২তম দিন। মাহে রমজানের শুভ সমাপ্তি ঘটানোর জন্য উন্মুখ ব্যাকুল মুমিনের দল। মহান আল্লাহই রমজানে এ পরিবেশ সৃষ্টি করেছেন। তিনি বলেছেন, রমজান এলে বেহেশতের দরজাগুলো খুলে দেয়া হয়, জাহান্নামের দরজাগুলো বন্ধ করে দেয়া হয়। আর শয়তানকে করা হয় জিঞ্জিরাবদ্ধ। কোরানুল কারীমে শয়তানকে মানবজাতির জন্য স্পষ্ট শত্রু হিসেবে চিহ্নিত করা হয়েছে। আজ শয়তানের প্রভাব ও এ থেকে নিষ্কৃতি সম্পর্কে কিছু কথা। বিশ্বের সর্বপ্রথম মানুষ ও নবী আদি পিতা হজরত আদম (আ)-এর জীবনের সঙ্গে শয়তান নামের এক দাম্ভিকের সংশ্লিষ্টতা চার প্রধান আসমানী গ্রন্থ তাওরাত, যাবুর, ইঞ্জিল ও সবশেষ পবিত্র কোরান অতি জোরালো ভাষায় ব্যক্ত করেছে।

আল্লাহ সুবহানাহু তায়ালা আদম (মানুষ) সৃষ্টির পর ফেরেশতাদের বললেন, ‘আদমকে সিজদা কর’। সবাই সিজদা করল, কিন্তু ইবলিশ করল না (সূরা বাকারা)। এরপর আল্লাহ এবং ইবলিশ শয়তানের মাঝে বেশ কথাবার্তা হয়। তিনি শয়তানের কাছে সিজদা থেকে বিরত থাকার কারণ জানতে চাইলেন। কোরানে তা অতি সুন্দরভাবে এসেছে। সেদিন থেকে শয়তান মানবকুলে বিভ্রান্তি ছড়ানোর কাজে হরদম ব্যস্ত। তার প্রলোভনে যুগে যুগে আল্লাহর সেরা জীব মানুষ গুমরাহ হয়, জাহান্নামী হয়। কোরানের বর্ণনা মতে, আসল শয়তানের সা-সাগরেদ সমাজের রন্ধ্রে রন্ধ্রে ছিটিয়ে আছে জিন, মনুষ্যসন্তান কিংবা নানা সম্পদের ছদ্মবেশে। সূরা সোয়াদের ৭৫ থেকে ৮৫নং আয়াতে বলা হয়েছে, ‘(আল্লাহ) বললেন, হে ইবলিশ! আমি যাকে নিজ হাতে সৃষ্টি করেছি, তার প্রতি সিজদা করতে তোমাকে কে বাধা দিল? তুমি কি ঔদ্ধত্য প্রকাশ করলে, না তুমি উচ্চ মর্যাদাসম্পন্ন? ইবলিশ বলল, আমি আদম হতে শ্রেষ্ঠ। তুমি আমাকে আগুন হতে সৃষ্টি করেছ এবং তাকে সৃষ্টি করেছ কাদামাটি হতে।’ তিনি বললেন, ‘তুমি (আজ থেকে) এখান হতে বের হয়ে যাও, কারণ তুমি অভিশপ্ত এবং তোমার উপর আমার এই অভিশাপ স্থায়ী হবে কর্মফল দিবস পর্যন্ত।’

সে বলল, ‘হে আমার প্রভু! তুমি আমাকে পুনরুত্থান দিবস পর্যন্ত অবকাশ দাও।’ তিনি বললেন, ‘যাদের অবকাশ দেয়া হয়েছে তুমি তাদেরই অন্তর্ভুক্ত হলে-অবধারিত সময় উপস্থিত হয়ার দিন পর্যন্ত।’ ইবলিশ বলল, তোমার ইজ্জতের কসম! আমি তাদের (মানুষদের) সকলেরই সর্বনাশ সাধন করব। তবে তাদের মধ্যে বিশুদ্ধমনা বান্দাদের নয়।’ প্রভু বললেন, ‘আমিই সত্য; এবং আমি সত্যই বলছি যে, তোমার ও তোমার অনুসারীদের দ্বারা আমি জাহান্নাম পূর্ণ করবই।’ শয়তান বলল, ‘আমি তাদের জন্য তোমার সরলপথে বসে থাকব। তারপর নিশ্চয়ই আমি তাদের সম্মুখ হতে ও তাদের পশ্চাৎ হতে এবং তাদের দক্ষিণ হতে এবং তাদের বাম হতে তাদের কাছে উপস্থিত হব এবং (তখন) তুমি তাদের অধিকাংশকেই কৃতজ্ঞ পাবে না’ (সূরা আ-রাফ, আয়াত ১৭)। এরপর আল্লাহ সুবহানাহু তায়ালা শয়তানের উদ্দেশে বললেন, যাও, জাহান্নামেই তোমার সম্যক শাস্তি এবং তাদের জন্যও সেই শাস্তি, যারা তোমাকে অনুসরণ করবে।

আল কোরানের বর্ণনানুযায়ী শয়তান একজন হলেও সে তার প্রভাব বিস্তার করে রেখেছে ঘরে ঘরে, তারই মন্ত্রে দীক্ষিত হয়ে আছে দেদার আদমসন্তান। তাদের উৎপাতেই সমাজে ঘটে বিশৃঙ্খলা, অশান্তি আর যাবতীয় বিভ্রান্তি। একটি আরবী কাহিনীতে দেখা যায়, শয়তান একজন যুবককে প্রথমে ফজরের নামাজ না পড়ার জন্য বিভ্রান্ত করে। তারপর একে একে তাকে অতি সুকৌশলে জোহর থেকে এশার নামাজ পর্যন্ত সবকটি থেকে বিরত রাখে। এরপর যখন শোয়ার সময় হলো শয়তান বিদায় নিয়ে চলে যাচ্ছে এমন সময় যুবকটির বোধোদয় হলো, সে জানতে চাইল এখন কেন শয়তান বিদায় নিচ্ছে। শয়তান বলল, দেখো আমি বেয়াদবি করেছি প্রভুর সঙ্গে জীবনে একবার। শুধু একবার। আর তা হজরত আদম (আ)-কে সিজদা না করে। আর তুমি? তুমি কিনা একদিনেই আল্লাহর নির্ধারিত ৫টি হুকুম পালনে অবাধ্য হলে। অর্থাৎ একদিনেই আল্লাহর নির্দেশ অমান্য করেছ ৫ বার। আমার মতে, তুমি এখন আমার চেয়ে বহু বেশি অপারাধে অপরাধী। মাহে রমজান বার বার প্রতিক্ষণ আমাদের সত্যই শয়তানী মনোবৃত্তি থেকে দূরে থাকার আধ্যাত্মিক শক্তি যোগায়।

SHARE