মহম্মদপুরে শিক্ষা কর্মকর্তার ঘুষ-দুর্নীতির প্রতিবাদে বিক্ষুব্ধ শিক্ষকদের সমাবেশ ॥ বিভিন্ন দপ্তরে অভিযোগ দাখিল ॥ ব্যবস্থা গ্রহণে ইউএনও’র আশ্বাস

magura
মহম্মদপুর (মাগুরা) সংবাদদাতা॥ মাগুরার মহম্মদপুর উপজেলা শিক্ষা অফিসার আব্দুস সালামের ঘুষ দুর্নীতির প্রতিবাদ ও তার অপসারণের দাবিতে ফুঁসে উঠেছেন শিক্ষকরা। বুধবার দুপুরে উপজেলার ১৩৪টি স্কুলের শিক্ষকরা সদরের মডেল সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয় মাঠে সমবেত হয়ে প্রতিবাদ সমাবেশ করে নানা শ্লোগান দেন। সেখানে সংক্ষিপ্ত সমাবেশে আব্দুস সালামের শাস্তি ও অপসারণের দাবি জানিয়ে বক্তব্য রাখেন প্রধান শিক্ষক গাওয়াহীদ হোসেন, মাহাবুবর রহমান শরীফ, কমনীয় কিঙ্কর তেওয়ারী, মুরাদ হোসেন. আবু তাহের, মশিউর রহমান, ফসিয়ার রহমান ও রেজাউল করিম বাবু।
সমাবেশ শেষে বিক্ষুব্ধ শিক্ষকরা মৌন মিছিল সহকারে উপজেলা নির্বাহী অফিসার শাহীন হোসেনের কার্যালয়ের সামনে সমবেত হয়ে শ্লোগান দেন। এক পর্যায়ে উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা শিক্ষকদের অভিযোগ শোনেন। এময় ক্ষুব্ধ শিক্ষকেরা কর্মকর্তা সালামের ঘুষ দুর্নীতি ও অনিয়মের বিচার চেয়ে অপসারণ দাবি করেন। ইউএনও শিক্ষাকর্মকর্তার বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেয়ার আশ্বাস দিলে তারা বাড়ি ফিরে যান। সদরের লাহুড়িয়া সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ে প্রধান শিক্ষক মাহাবুবর রহমান শরীফ জানান, উপজেলা প্রাথমিক শিক্ষা কর্মকর্তা আব্দুস সালামের বেপরোয়া ঘুষ দুর্নীতি ও অনিয়মের কারণে শিক্ষকরা হয়রাণী ও আর্থিক ক্ষতির শিকার হচ্ছেন। এ বিষয়ে তারা কর্মকর্তার নানা অনিয়ম-দুর্নীতির খতিয়ান তুলে ধরে জেলা প্রশাসক বরাবর লিখিত অভিযোগ দায়ের করেছেন। অভিযোগপত্রে তিনি ও কালীপদ রায় চৌধুরী সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক কমনীয় কিঙ্কর তেওয়ারীসহ ২০জন প্রধান শিক্ষক স্বাক্ষর করেন। শিক্ষা, প্রাথমিক গণশিক্ষা মন্ত্রণালয়, দুর্নীতি দমন কমিশনসহ বিভিন্ন উর্ধ্বতন দপ্তরে অভিযোগের অনুলিপি পাঠানো হয়েছে। লিখিত অভিযোগ থেকে জানা গেছে, গত ২০ সেপ্টেম্বর শিক্ষা কর্মকর্তা আব্দুস সালাম দিনাজপুরের খানসামা উপজেলা থেকে মাগুরার মহম্মদপুরে যোগদান করেন। যোগদান করার পর থেকেই বেপরোয়া ঘুষ বাণিজ্য শুরু করেন। উপজেলার ১৩৪টি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের প্রায় ৬শ’ শিক্ষক কর্মচারীর কাছ থেকে নানা কাজ আটকে দিয়ে তিনি অর্ধকোটি টাকা ঘুষ বাণিজ্য করেছেন বলে শিক্ষকদের অভিযোগ। তিনি টাইম স্কেলের বকেয় বিল, সাবেক বেসরকারি শিক্ষকদের টাইম স্কেল, দপ্তরিদের বর্ধিত বেতন বিলে স্বাক্ষর করার আগে শিক্ষক প্রতি ৫ হাজার টাকা পর্যন্ত ঘুষ নেন। ফেব্রুয়ারি মাসে টাইম স্কেলের মিটিং দেরি করে মাথা পিছু ৪ হাজার টাকা করে আদায় করেন। ২০ থেকে ৫০ হাজার টাকা ঘুষের বিনিময়ে প্রতিস্থাপন ছাড়াই শিক্ষক বদলী করেছেন বলে অভিযোগ থেকে জানা গেছে। এসব ঘুষের টাকা আদায়ে কয়েকজন দালাল শিক্ষককে ব্যবহার করেছেন বলেও অভিযোগ করেন বিক্ষুব্ধ শিক্ষকরা। তিনি উপজেলা পর্যায়ে শিশু প্রতিযোগিতার আয়োজন না করেই তিনি চ্যাম্পয়ন তালিকা পাঠিয়ে বাদ্দের টাকা আত্মসাৎ করেছেন। বিনা কারণে শিক্ষকদের বদলীর ভয় দেখিয়ে টাকা আদায় করেছেন। এছাড়া বিদ্যালয়ের বিভিন্ন সংস্কার কাজ ও শিক্ষা উপকরণ ক্রয়ের বিপরীতে সরকারি বরাদ্দের শতকরা ২০ ভাগ টাকা ঘুষ বাবদ জোর করে আদায় করেছেন বলে লিখিত অভিযোগে জানিয়েছেন। অভিযুক্ত কর্মকর্তা সালামের বিরুদ্ধে আনীত অভিযোগ তদন্ত করতে মঙ্গলবার জেলা প্রাথমিক শিক্ষা কর্মকর্তা এসএম সিরাজুদ্দোহা সরেজমিন মহম্মদপুরে আসেন। তিনি সারাদিন সরাসরি শিক্ষকদের সাথে কথা বলেন। এসময় শিক্ষকরা তার নানা অনিয়ম দুর্নীতির বিষয় তুলে ধরেন। এক পর্য়ায়ে শিক্ষকদের মধ্যে উত্তেজনা শুরু হলে সালাম একটি মাইক্রোবাসে মাগুরার দিকে চলে যান। তিনি দুইদিনের ছুটিতে আছেন বলে জানা গেছে। এদিকে চিত্তবিশ্রাম সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক গাওয়াহীদ হোসেন বলেন, শিক্ষা কর্মকর্তার ঘুষ বাণিজ্যে আমরা অসহায়। কোন কাজে কত ঘুষ তিনি প্রকাশ্যে বলে দেন। ঘুষ ছাড়া একটি কাজও তিনি করেন না। টাকা না দিলে ফাইল আটকে যায়, হতে হয় পদে পদে হয়রানি। প্রতিবাদ করলে বিদ্যালয় পরিদর্শনের নামে কারণ দর্শানোর নোটিশ দিয়ে আবার ঘুষ দাবি করেন। অভিযুক্ত মহম্মদপুর উপজেলা প্রাথমিক শিক্ষা কর্মকর্তা আব্দুস সালাম দাবি করেছেন পুরো বিষয়টি ষড়যন্ত্র। একটি পক্ষের স্বার্থ রক্ষা করতে না পারলে তারা আমার বিরুদ্ধে লেগে যান।’ জেলা প্রাথমিক শিক্ষা কর্মকর্তা এসএম সিরাজুদ্দোহা জানা, ‘ঘটনার তদন্ত চলছে।’ মহম্মদপুর উপজেলা নির্বাহী অফিসার শাহীন হোসেন জানান, শিক্ষকরা অভিযোগ দিয়েছেন। আমি বিষয়টি জেলা প্রশাসক মহোদয়কে জানিয়েছি।

SHARE