শৈলকুপায় কয়েক ঘন্টার ব্যবধানে দুই ছেলের মৃত্যু॥ শোকের সাগরে ভাসছে স্বজনরা ॥ এলাকাজুড়ে শোক আর অজানা রোগ আতঙ্ক

oggato rog
শৈলকুপা (ঝিনাইদহ) প্রতিনিধি॥ ঝিনাইদহের শৈলকুপায় অজ্ঞাত রোগে মাত্র কয়েক ঘন্টার ব্যবধানে দুই শিশুপুত্রের মৃত্যু হয়েছে। এই মৃত্যু পরিবারটিকে শোকের সাগরে ভাঁসিয়েছে। শোকে মুহ্যমান মা-বাবাসহ স্বজনদের কান্না থামছে না। তাদের আহাজারীতে ভারী হয়ে উঠেছে আশপাশের পরিবেশ। এলাকাতেই নেমে এসেছে শোকের পাশাপাশি অজানা রোগ আতঙ্ক। রোববার রাতে ও সোমবার দুপুরে দুই শিশু সহোদরের মৃত্যুর ঘটনা ঘটে। চিকিৎসকরা তাদের মৃত্যুর সঠিক কোন রোগের নাম বলতে পারেননি। মৃতদের মধ্যে মাসুম (১৪) গাড়াগঞ্জ মাধ্যমিক বিদ্যালয়ের ৮ম শ্রেণী ও রবিন (১১) বারইপাড়া সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ে ৩য় শ্রেণীর ছাত্র ছিল। তারা উপজেলার বারইপাড়া গ্রামের বারইপাড়া গাফুর মুন্সির ছেলে।
মৃত দুই শিশুর পিতা গাফুর মুন্সির জানান, তার দুই ছেলে রাতের খাবার খেয়ে মায়ের সাথে গল্প করছিল। আনুমানি রাত ১১টার দিকে হঠাৎ করে বড় ছেলে মাসুুমের শ^াসকষ্ট ও হাত পা ঝিন ঝিন শুরু হয়। দ্রুত তাকে শৈলকুপা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে ভর্তি করা হয়। সেখানে ডাক্তার তাকে ইনজেকশন দেন কিন্তু তাতে অবস্থার উন্নতি না হওয়ায় ডাক্তার তাকে রের্ফাড করেন। হাসপাতাল থেকে তাকে বের করে নেয়ার পথে রাত সাড়ে ১২টা দিকে মাসুম মৃত্যুরকোলে ঢলে পড়ে। স্থানীয়রা জানান, মাসুমের এই মৃত্যু খবরে পরিবারটি যখন শোকে মুহ্যমান ঠিক তখন একইভাবে অসুস্থ্য হয়ে পড়ে ছোট ছেলে রবিন। ভোরের দিকে দ্রুত তাকে তাকে কুষ্টিয়া সদর হাসপাতালে নিয়ে যান স্বজনরা। সেখানকার চিকিৎসকরা তাকে রাজশাহী মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে নেয়ার পরামর্শ দেন। রবিনকে এ্যাম্বুলেন্সে উঠানোর পরপরই দুপুর ১টার দিকে সেও চলে যায় না ফেরার দেশে। তারা জানিয়েছেন, মৃত্যুর পর মাসুম এর নাক দিয়ে রক্ত বের হতে দেখা গেছে এবং মৃত্যুর আগে রবিনের নাক দিয়ে গেজা রেব হচ্ছিল। শৈলকুপা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সের স্বাস্থ্য ও পরিবার পরিকল্পনা কর্মকর্তা ডা. বাবর আলি জানান, রোগটিকে এসপ্রেশন নিউমনিয়া বলে। খাবার খাদ্য নালিতে না গিয়ে শ্বাস নালিতে গেলে এই সমস্যা হয়। তবে ব্রেইনের কোন সমস্যার কারনেও এ ধরনের মৃত্যুর ঘটনা ঘটতে পারে। সর্বশেষ পাওয়া তথ্যে জানা গেছে, মাত্র কয়েক ঘন্টার ব্যবধানে শিশু দুটির মারা যাওয়ার ঘটনা মানতে পারছেন না স্বজনরা কেউ। শোকের মাতম চলছে পরিবারটিতে। এলাকাতেও নেমে এসেছে শোকের ছায়া। সেই সাথে অজ্ঞাত রোগ আতঙ্ক বিরাজ করছে গোটা এলাকায়।

SHARE