খুলনার অধিকাংশ সড়ক-মহাসড়ক খানাখন্দে ভরা

vhangga road
সমাজের কথা ডেস্ক॥ খুলনার গুরুত্বপূর্ণ প্রায় ১০ থেকে ১১টি সড়ক-মহাসড়কে দেখা দিয়েছে বড় বড় খানাখন্দন। এ সব খানাখন্দে ভরা রাস্তা দিয়ে যানবাহন চলা তো দূরের কথা পথচারীদের পায়ে হেঁটে চলাই এখন কষ্টের হয়ে দাঁড়িয়েছে।

দীর্ঘদিন ধরে এ সব সড়কের বেহাল দশা থাকায় জনদূর্ভোগ চরম আকার ধারণ করেছে।

আর বর্তমানে এ সব সড়কে বেশি দূর্ভোগ পোহাচ্ছেন ঈদে ঘরমুখো যাত্রীরা।

জানা যায়, খুলনা বিভাগের গুরুত্বপূর্ণ ১০ থেকে ১১টি মহাসড়কের প্রায় ১১০ কিলোমিটা ভাঙা।

বর্ষা মৌসুমে সড়কগুলোর অবস্থা আরো খারাপ অবস্থায় গিয়ে পৌঁছেছে।

এ রুটে সব চেয়ে গুরুত্বপূর্ণ খুলনা-ঢাকা মহাসড়ক। অবস্থা অত্যন্ত বেহাল এ মহাসড়কেরও।

এছাড়া বড়বাজার রেল স্টেশন এলাকা, রূপসা-বাগেরহাট, খুলনা-মংলা, খুলনা-পাইকগাছা, খুলনা-কয়রা, খুলনা-সাতক্ষীরা মহাসড়কের বেশ কিছু স্থানে বৃষ্টিতে বিটুমিন ও খোয়া সরে যাওয়ায় বড় খানাখন্দের সৃষ্টি হয়েছে।

ঢাকা থেকে হানিফ পরিবহনে ঈদের ছুটিতে খুলনায় এসেছেন মো. আব্দুল্লাহ।

তিনি বাংলানিউজকে জানান, ঢাকা থেকে আসার পথে যশোর থেকে খুলনা পর্যন্ত রাস্তার যে বেহাল দশা তা ভাষায় বলার মতো নয়।

তিনি দাবি জানান, ঈদের আগেই যেন এ সড়ক মেরামত করা হয়।

ক্ষোভের সঙ্গে তিনি বলেন, রাস্তার এ দশা থাকলে ঈদের পর তিনি ট্রেনে ঢাকা যাবেন।

একই রুটের যাত্রী ফাহিম বাংলানিউজকে জানান, যশোর-নওয়াপাড়া অংশের ভাঙা স্থানে মেরামতের নামে ভাঙা ইট ফেলে গর্ত ভরাটের চেষ্টা করা হচ্ছে। এতে ভয়াবহ সড়ক দুর্ঘটনা হতে পারে।

পূর্ব রূপসা এলাকার বাসিন্দা মো. আজীম বাংলানিউজকে জানান, রূপসা পুরাতন ঢাকা মেইন সড়ক এখন মরণফাঁদে পরিণত হয়েছে। দীর্ঘ কয়েক বছর ধরে রাস্তাটি নাম মাত্র সংস্কার করা হলেও কয়েকদিন যেতে না যেতেই তা আবার বড় বড় খানাখন্দে পরিণত হয়েছে। এমনকি বিগত দিনে এ রাস্তা ঠিকাদারের দায়িত্বহীনতায় কাজের মান নিম্ন হওয়ায় উক্ত রাস্তাটি মেয়াদের আগেই ক্ষতিগ্রস্থ হয়ে চলাচলের অনুপযোগী হয়ে পড়েছে।

তিনি জানান, মসজিদ এ আকসার সামনে থেকে শুরু করে বাগমারা সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের সামনে পর্যন্ত সম্পূর্ণ সড়কটি বড় বড় খানাখন্দকে পরিণত হয়েছে।

তিনি জানান, এ রাস্তা দিয়ে দক্ষিণ-পশ্চিমাঞ্চলের হাজার হাজার লোক যাতায়াত করে থাকে। এমনকি বড় বড় মালবাহি ট্রাক এ রাস্তা দিয়ে চলাচল করে থাকায় প্রতিনিয়ত ঘটছে ছোট বড় দুর্ঘটনা।

যার ফলশ্রুতিতে কিছুদিন আগে একটি ট্রাক উল্টে পুকুরে পড়ে যায়। স্কুল-কলেজ, মাদ্রাসাগামী শিক্ষার্থীরা এই জনগুরুত্বপূর্ণ সড়ক দিয়ে তাদের নিউ নিউ প্রতিষ্ঠানে যাতায়াত করে।

ক্ষোভের সঙ্গে তিনি বলেন, পিচের রাস্তায় এখন বড় গর্তে পরিণত হওয়ায় কোনো গুরুতর রোগীকে ওই রাস্তা দিয়ে নেওয়ার সময় যে কোনো সময় দুর্ঘটনার সম্মুখীন হতে পারে।

সড়ক ও জনপদ বিভাগ খুলনার নির্বাহী প্রকৌশলী আলিউল হোসেন বুধবার বিকেলে বাংলানিউজকে বলেন, ঈদকে সামনে রেখে এ সময় ৩টি সড়ক মহাসড়কে মেরামত কাজ চলছে।

তিনি আশা করেন, ঈদের আগেই মহাসড়কগুলো চলাচলের উপযোগী হবে।

SHARE