কেশবপুরে পাউবো বাঁধ ভেঙ্গে আড়াই শতাধিক বাড়ি প্লাবিত

beri badh venge pani
আশরাফ-উজ-জামান খান, কেশবপুর॥ যশোরের কেশবপুরে পূর্ণিমার জোয়ারের প্রভাবে পানি উন্নয়ন বোর্ডের শ্রীহরি ও ভদ্রা নদীর গ্রাম রক্ষা বাঁধ ভেঙ্গে তিনটি গ্রামের আড়াই শতাধিক পরিবার পানিবন্দি হয়ে পড়েছে। মঙ্গলবার ভোরে এই বাঁধ ভেঙ্গে উপজেলার সন্ন্যাসগাছা, গৌরীঘোনা ও আগরহাটি গ্রামে নদীর পানি ঢুকে প্লাবিত হয়। এই বাঁধ ভাঙ্গা জোয়ারের পানিতে ভেসে গেছে পুকুর ও ঘেরের কোটি টাকার মাছ। ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে সবজি ক্ষেত, বীজতলা ও কাঁচা ঘরবাড়ি।
এলাকাবাসী জানিয়েছেন, পূর্ণিমার জোয়ারে অস্বাভাবিকভাবে নদীর পানি বেড়ে যাওয়ায় উপজেলার ভদ্রা নদীর সন্ন্যাসগাছা গ্রামের গাজী বাড়ি নামক স্থানে ও শ্রীহরি নদীর আগরহাটি নতুন আশ্রয় কেন্দ্র থেকে হাকিম গোলদারের বাড়ি পর্যন্ত গ্রাম রক্ষা বাঁধ ভেঙ্গে গেছে। এতে উপজেলার সন্ন্যাসগাছা, গৌরীঘোনা ও আগরহাটি গ্রামে পানি ঢুকে পড়েছে। ফলে শতাধিক পুকুর, ৩০ টি মাছের ঘের, শতাধিক বিঘা ফসলের ক্ষেত ও আড়াই শতাধিক পরিবারের ঘরবাড়ি প্ল¬াবিত হয়েছে।
বাঁধ সংলগ্ন গ্রামের বাসিন্দা রাজ্জাক গোলদার, শাহাজান গোলদার, রেজাউল ইসলাম, রোস্তম আলী, আসাদুল ইসলাম, রবিউল ইসলাম ও শরিফুল ইসলাম বলেন, যখন নদীতে জোয়ার আসছে তখন দুর্ভোগ চরম আকার ধারণ করছে। স্থানীয় ইউপি সদস্য সরদার মুজিবুর রহমান গত তিনদিন ধরে এলাকার বাঁধ রক্ষার চেষ্টা করেও ব্যর্থ হয়েছেন বলে জানান। গৌরীঘোনা ইউপি চেয়ারম্যান এস এম আলী রেজা বলেন, ভদ্রা নদীর বাঁধ ভেঙ্গে পানি প্রবেশ করায় ৩ গ্রামের আড়াই শাতাধিক পরিবার ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছেন। উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা সঞ্জয় কুমার দাস বলেন, আমনের বীজতলা, আউশের ও সবজির ক্ষেত তলিয়ে ৫ লক্ষাধিক টাকার ফসলের ক্ষতি হয়েছে।
উপজেলা মৎস্য কর্মকর্তা আলমগীর কবির ঘটনাস্থল পরিদর্শন করে এসে জানান, ওই এলাকার ৩০ টি মাছের ঘের ও শতাধিক পুকুর প্লাবিত হয়ে প্রায় ১ কোটি টাকার মাছের ক্ষতি হয়েছে। পানি উন্নয়ন বোর্ডের উপবিভাগীয় প্রকৌশলী শফিকুল ইসলাম বলেন, জোয়ারের পানি অস্বাভাবিক বৃদ্ধি পাওয়ায় বাঁধের ২/৩ জায়গা ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। বিষয়টি উর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষকে জানিয়ে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়া হবে।
উপজেলা চেয়ারম্যান এইচ এম আমির হোসেন বলেন, তিনি প্রকল্প বাস্তবায়ন কর্মকর্তাকে সাথে নিয়ে মঙ্গলবার এলাকা পরিদর্শন করেছেন। বাঁধ মেরামতের উদ্যোগ নেয়া হয়েছে এবং এ জন্য তিনি এ লাখ টাকা বরাদ্দ করেছেন।

SHARE